ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে টেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে অবস্থান করছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বিশেষ মর্যাদা, উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজ্যের স্বার্থকে সামনে রেখে দলটি কখনও কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করেছে, আবার কখনও বিরোধিতায় নেমেছে। সম্প্রতি এনডিএ জোটের সঙ্গে টিডিপির সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
টিডিপি নেতৃত্বাধীন চন্দ্রবাবু নাইডু সরকার রাজ্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চায়। অতীতে এনডিএর সঙ্গে জোট বেঁধে চললেও, অন্ধ্রপ্রদেশের বিশেষ মর্যাদার ইস্যুতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিল দলটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জোট রাজনীতিতে টিডিপির অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। দলের একটি অংশ মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা উন্নয়নের স্বার্থে জরুরি, অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, টিডিপি জনগণের স্বার্থে আপস করতে পারে না।
এনডিএ জোটে টিডিপির সমর্থন নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও, দলটি এখনো সরকারকে সরাসরি সমর্থন করার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি। দলীয় নেতৃত্বের মতে, কেন্দ্র যদি অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়নে পর্যাপ্ত সহায়তা দেয়, তবে তারা জোটের অংশ হিসেবে থাকতেই পারে। তবে বিরোধীরা বলছে, মোদী সরকারের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা টিডিপির আঞ্চলিক রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
সরকারের দিক থেকে বলা হচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশের উন্নয়নে কেন্দ্র সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তবে টিডিপির অতীত অবস্থানের কথা মাথায় রেখে তারা সাবধানী নীতি অনুসরণ করছে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার চায়, জোট শরিকদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে এগিয়ে যেতে।
ভবিষ্যতে টিডিপি এনডিএর সঙ্গে কতটা ঘনিষ্ঠ থাকবে বা বিরোধী জোটের দিকে ঝুঁকবে, তা নির্ভর করছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়ার ওপর। চন্দ্রবাবু নাইডুর দল যদি কেন্দ্রীয় সরকার থেকে যথেষ্ট সুবিধা পায়, তবে তারা জোটে টিকে থাকতে পারে, নতুবা বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে। এই রাজনৈতিক সমীকরণ কেবল টিডিপির জন্য নয়, এনডিএ এবং সমগ্র ভারতীয় রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।