অভিজিৎ বসু
চারিদিকে এখন সৎ আর অসৎ এর দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে গেছে গোটা রাজ্য জুড়েই। কে সৎ আর কে অসৎ তার প্রমান করতে মরিয়া সবাই। বাম, ডান, কংগ্রেস,গেরুয়া বাহিনীর বিজেপি সবাই এখন সৎ আর অসৎ এর সীমারেখার কোন পারে কে কোথায় অবস্থান করছেন নিজের মত করে সেটা প্রমাণ করতেই তাঁরা বদ্ধ পরিকর হয়ে উঠেছে সবাই। যে করেই হোক আমি রাজনীতিতে যুক্ত কিন্তু আদ্যন্ত একজন সৎ মানুষ এটাই এখন আসল কথা। কারুর সাদা শাড়ীতে কালো দাগ নেই আর কারুর সাদা পাঞ্জাবিতে কালো দাগ নেই এটা নিয়ে চলছে জোর আকচা আকচি, কামড়া কামড়ি আর একে অপরের সাথে যুদ্ধ। বেশ মজার ব্যাপার কিন্তু এটা। সৎ প্রমাণে মরিয়া সকলেই। সেই ঠিক কাদম্বিনীর মতই মরিয়া প্রমাণ করতে হবে যে সে সত্যিই মারা গেছে।
আচ্ছা ব্যক্তি জীবনে, সমাজ জীবনে, রাজনৈতিক জীবনে সৎ আর অসৎ এর এই ঝগড়া আর লড়াই বরাবর। এই রাজনীতির বৃত্তে ঘুরে বেড়ানো মানুষজন রাজনীতির লোকজন কি সত্যি একসময় এই সৎ আর অসৎ এর সীমারেখার এইপার আর ওইপারে দুপক্ষ তাল ঠুকতেন ঠিক ঘোড়ার মতোই। আজ থেকে বেশ কয়েক দশক আগেও তো রাজনীতি ছিল আর রাজনীতিক নেতারাও ছিলেন। যা নিয়ে এত হৈ চৈ হুল্লোড় পড়ে যেতো চারিদিকে। সর্বত্র কেমন ঢি ঢি পড়ে যেতো তাঁদের কাণ্ডকারখানার।
আজ কেনো জানিনা আমি মনে মনে এই কথাটা জানতে খুব ইচ্ছা হয় আমার। সেই একদা বিখ্যাত ডাকাবুকো সিবিআই এর প্রাক্তন পুলিশকর্তা সেই পশুখাদ্য মামলায় যিনি বিহারের তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের জেল যাত্রা করিয়েছিলেন সেই বিখ্যাত সিবিআই কর্তা উপেন বিশ্বাস। এক সময় যিনি তাঁর বিধানসভা এলাকায় ‘সৎ রঞ্জন’ এর কথা বলে হৈ চৈ হুল্লোড় ফেলে দিয়েছিলেন এক সময় গোটা রাজ্য জুড়ে। সেই বাগদার সৎ রঞ্জন। আসলে যিনি সৎ এর মুখোশ পরে অসৎ কাজ করে গেছেন চুপিসারে। সেই সৎ রঞ্জন যে কি করে অসৎ হলো তার ইতিহাস আমাদের সবার জানা আছে।
সেই একটা রাজনৈতিক দলের শৃঙ্খলারক্ষা পরায়ন কমিটির প্রধান নেতা দলের দ্বিতীয় ব্যক্তি রাজ্য মন্ত্রিসভার দু নম্বর মন্ত্রী তিনিও যে কি করে কর্পোরেট সংস্থার কাজ ছেড়ে রাজনীতি করতে এসে ধীরে ধীরে অসৎ হয়ে গেলেন কী করে কে জানে। সেই একদা বাম আমলের একমাত্র লড়াই করা নেত্রী যিনি সেই মৃত্যু ঘন্টা বাজিয়ে আন্দোলন করে জননেত্রী হলেন। সাধারণ সুতির সস্তার শাড়ি আর হাওয়াই চটি পড়ে গোটা রাজ্য চষে ফেলছেন শুধুই নিজের আন্দোলন করে। যাঁর মানি ব্যাগের ভেতর তখন মাত্র এক টাকা পঁচিশ পয়সা সম্বল করেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন তিনি তাঁর মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে সিপিএমের লাল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়তে। এক সর্বভারতীয় বাংলা দৈনিক কাগজে এমন সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি সেই সময় আজ থেকে বহু বছর আগে।
আজ সেই মানুষটার বিরুদ্ধে কেনো যে এত অভিযোগ ওঠে আর তাঁর সেই দীর্ঘ দিনের সৎ এর মুখোশ খুলে গিয়ে অসৎ এর সীমারেখার ভিতর ঢুকে পড়েন তিনি যা বিরোধীদের একমাত্র অভিযোগ কি করে ওঠে কে জানে। আসলে তাহলে কী রাজনীতির প্রভূত ক্ষমতা, সেই ক্ষমতার স্বাদ, সেই ক্ষমতার উৎস স্থলে ঘাপটি মেরে বাস করে সৎ এর পাশাপাশি অসৎ এর কালো গুবড়ে পোকা। যা আমাদের কুড়ে কুড়ে খায়। আর বারবার বলে কে বলেছে এই সৎ হয়ে বেঁচে থাকতে তোমায়। একটাই জীবন যে জীবনে সুখ, প্রাচুর্য, বৈভব, বিত্ত, সম্পদ, চূড়ান্ত ভোগবাদকে সম্বল করেই তো বেঁচে থাকতে হয়।
শুধু শুধু লোক দেখানো কৃচ্ছতা আর সেই কৃচ্ছসাধন দেখিয়ে সহানুভূতি আদায় করার কী দরকার। একটা জীবনে যা হওয়ার তাতো হয়েই গেছো। আর তাই নিরন্তর সৎ থাকার চেষ্টা করে আর সততার নজির গড়ে আর সততার আলো গায়ে মেখে উজ্জ্বল হয়ে বেঁচে থাকা এই সমাজে সংসারে রাজনীতির ময়দানে। শুধুই নিজের মতো করে। সেখানে কে কতটা সৎ আর কে অসৎ সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর আর কি দরকার।
লাইন অফ কন্ট্রোলের একদিকে লোকের সংখ্যা একদম নেই বললেই চলে। একদিকে টিমটিম করে জ্বলছে সেখানে গুটিকয় মানুষ আর অন্য দিকে গিজগিজ করছে ভীড়। যাঁরা সব সততার আলো গায়ে মেখে ধীরে ধীরে কেমন করে যেন অসৎ হয়ে গেলেন এই ক্ষমতার ছায়াপথ মাড়িয়ে। সত্যিই অসাধারণ এই সৎ আর অসৎ এর সীমারেখার টানাপোড়েন আর দ্বন্দ্ব। যে দ্বন্দ্ব আমাদের কুড়ে কুড়ে খায় জীবনভর। কোন দিকে যাবো সৎ এর দিকে না কী অসৎ এর দিকে। সেটা তো সম্পূর্ণ নিজেরই হাতে। আর তাই বোধহয় আজ একদিকে অনেক ভীড় আর অন্যদিকে কেউ নেই বললেই চলে। সাদা জীবন না কালো জীবন সেটা যে বেছে নেওয়ার দায় একমাত্র নিজের হাতেই। তাহলে আর এত হৈ চৈ হুল্লোড় চিৎকার কেনো?