স্নিগ্ধা চৌধুরী
বছর ঘুরলেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই বাংলার রাজপথ যেন রণক্ষেত্র! রামনবমীকে সামনে রেখে একদিকে গেরুয়া শিবিরের জাঁকজমক প্রস্তুতি, অন্যদিকে পাল্টা কড়া বার্তা শাসক শিবিরের। ফলে উৎসবের আবহে রাজনীতির আঁচ ক্রমেই গরম হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি।
রামভক্তির আবরণে ভোট ব্যাঙ্কের খেলা যেন খুল্লমখুল্লা। রামনবমী উপলক্ষে ৬ এপ্রিল কলকাতা থেকে জেলার রাস্তায় রামধুন, গেরুয়া পতাকা আর মিছিলের ঢল। পদ্ম শিবিরের দাবি, এ এক ‘আত্মপরিচয়ের উদ্যাপন’। কিন্তু শাসকদলের চোখে, এ কেবলই অশান্তির আগুন জ্বালানোর কৌশল।
এই আবহেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ঘি ঢেলেছে আগুনে। তাঁর হুঁশিয়ারি— রামনবমীতে প্রচুর মানুষ রাস্তায় নামবে। কেউ বাধা দিলে মাড়িয়ে দেওয়া হবে! এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে।
পাল্টা জবাব তৃণমূল নেতা সওকত মোল্লার— বাংলার পুলিশ আছে বলেই দিলীপবাবু ঘর থেকে বেরোতে পারছেন। না হলে ঘরেই থেকে যেতেন। তিনি আরও বলেন, বিজেপি বাংলা দখলে ব্যর্থ হয়ে হিংস্র হয়ে উঠেছে, রাজ্যে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করছে তারা।
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝেই রাজ্যজুড়ে পুলিশি তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। অতীতের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার রামনবমী ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। ২ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যের সব পুলিশ কর্মীর ছুটি বাতিল, ১০টি কমিশনারেটে মোতায়েন বাড়তি ফোর্স।
কলকাতার রেড রোড, মেয়ো রোড, ভিক্টোরিয়া চত্বর— সর্বত্র গেরুয়া ঝড়। মিছিল, গান, ধর্মীয় আবেগের মাঝে চলছে ভোটকুশল রাজনীতি। উৎসবের নাম করে রাজপথে কুৎসিত শক্তি প্রদর্শনের আশঙ্কা তাই রয়েই যাচ্ছে।
রামনবমী এবার শুধুই ধর্মীয় উৎসব নয়, তা যেন পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক ‘অগ্নিপরীক্ষা’য়।