আলোচনার টেবিলে সময়ের পর সময় কেটে যাচ্ছে অথচ সমাধানের কোনও খোঁজ নেই – ইউক্রেন যুদ্ধ থামা নিয়ে নির্যাস এটাই। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার কাছে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনার প্রতি ধৈর্য হারাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে এর জেরে রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিতও মিলেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা শান্তি আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছেছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সামরিক জোট ন্যাটো গোষ্ঠীভূক্ত বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে মার্কো রুবিও আলোচনার বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই, কয়েক মাস নয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জানতে পারব যে রাশিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ইচ্ছুক কিনা।” আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে আমেরিকার এই মনোভাবের পিছনে এই উদ্বেগই কাজ করছেন যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধক্ষেত্রে তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য আলোচনাকে সময় কাটানোর কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
কী অভিযোগ ইউরোপের?
ইউক্রেনে দ্রুত সম্ভব শান্তিচুক্তি চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্তাদের সঙ্গে সমানতালে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর প্রশাসন। কিন্তু রাশিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের সব প্রচেষ্টাকে বানচাল করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউরোপের বিদেশমন্ত্রীরা। ব্রাসেলসের বৈঠক ইউরোপের প্রতিনিধিরা ওই মনোভাব ব্যক্ত করেন। তাঁরা মনে করেন শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠিন অবস্থান নেওয়া উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের। কারণ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট শান্তিচুক্তির বিষয়ে আন্তরিক নন।
রাশিয়ার মূল দাবি এবং তা নিয়ে উদ্বেগ
রাশিয়ার যুদ্ধ থামানো বা বিরতির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিমিয়ার সংযুক্তিকরণের স্বীকৃতি, ইউক্রেনের চারটি অঞ্চল যেগুলো তারা দখল করেছে বলে দাবি করে তার হস্তান্তর, এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার নিশ্চয়তা। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চান রাশিয়ার পূর্ণ প্রত্যাহার, বন্দীদের ফিরিয়ে দেওয়া, অপহৃত ইউক্রেনীয় শিশুদের ফেরত এবং পশ্চিমী দেশগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। ইউরোপীয় নেতারা এই ভেবে উদ্বিগ্ন যে ট্রাম্প শান্তি আলোচনায় পুতিনের দাবিগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে দিতে পারেন। আর এটা হলে ইউক্রেনের সুরক্ষার ব্যাপারটা প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়বে।
ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিরক্ষার চেষ্টা
ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনকে রক্ষার জন্য কাজ করছেন। ফরাসি ও ব্রিটিশ সামরিক নেতারা কিয়েভ সফর করেছেন এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলা নিশ্চিত করতে সৈন্য মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি উল্লেখ করেছেন, বিমান প্রতিরক্ষা এবং স্থল ও সমুদ্রে উপস্থিতি এই প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে, রাশিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা ইউক্রেনে ন্যাটো সৈন্য মেনে নেবে না।