শাসকদলের নেতাদের কাঁপুনি ধরিয়েছে দলনেত্রীর হাতে থাকা এক তালিকা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদ সফরে এসে সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন। আবাস যোজনার উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর কাছে তালিকা রয়েছে, এবং অভিযুক্তদের কাউকে ছাড়া হবে না।
রেজিনগরের চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন, উপভোক্তাদের কাছ থেকে ৫-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। মমতার এই ঘোষণার পরেই জেলার প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। নির্দেশের পর, পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব থানাগুলিকে অভিযোগ পেলেই মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর মধ্যেই রেজিনগরের আন্দুলবেড়িয়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রবিন ঘোষ ও রামপাড়া ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য সত্যনারায়ণ ঘোষের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে এফআইআর দায়ের হয়েছে। বাংলা আবাস যোজনার অন্তত ছয়জন উপভোক্তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশের দাবি।
তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বও এ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেছেন, যাঁরা টাকা নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করুন। দলও কড়া ব্যবস্থা নেবে।জেলা চেয়ারম্যান রবিউল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রশাসনের পাশাপাশি দলীয় তদন্তও চলবে।
তবে বিরোধীদের দাবি, শুধুমাত্র ভয় দেখিয়ে কাটমানি বন্ধ করা যাবে না। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পদ কেড়ে নেওয়া হবে। এখন প্রশ্ন, এই কড়া হুঁশিয়ারির পরেও কি কাটমানির রমরমা বন্ধ হবে?
