মহালয়ার সকালে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র বাবুঘাটে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের ছবিতে মালা দিয়ে তর্পণ করেন। মদন মিত্র বলেন, আমি চাই ওঁরা শান্তিতে থাকুন। সুস্থ থাকুন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সুখে দিন কাটাক। বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে যে মিথ্যা অপবাদগুলি রটানো হচ্ছে, তা বন্ধ হোক।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় শুভেন্দু অধিকারী হাওড়ার ডোমজুড়ে এক দলীয় কর্মসূচিতে বলেন, তাহলে এখন আমরা ওনার (মদন মিত্রের) বাবার জায়গায় চলে গিয়েছি। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস নতুন সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে। বাংলার মানুষ তা দেখছেন। তর্পণ করা হয় বাবা-মা-কে শ্রদ্ধা জানাতে। পিতৃপক্ষ শেষে মাতৃপক্ষ শুরু হয়। তাহলে এখন আমরা বাবার জায়গায় চলে গিয়েছি।
শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেসের সততা নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেন, চুরি আর দুর্নীতি এখন সবচেয়ে বড় ইস্যু। যেভাবে গ্রামগঞ্জে চুরি-দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে, তাতে প্রমাণিত হয় তৃণমূল কংগ্রেসের ১০০ শতাংশ অসৎ দল। তিনি জানান, এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই এবারে পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, এবারে পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা মনোনয়নপত্র জমা দেব এবং জিতব। যেখানে বাধা দেওয়া হবে সেখানে আমি এসে মনোনয়নপত্র জমা করাব। এবারের ভোটে দুর্নীতি এবং চুরি মূল ইস্যু হবে।
মদন মিত্রের এই তর্পণ এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা মদন মিত্রের এই কর্মকাণ্ডকে তামাশা বলে অভিহিত করে বলেন, এসব তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। ওর নিজের রাজনৈতিক জীবন সমাপ্ত হতে চলেছে। তাই এসব তামাশা করছে।
মদন মিত্রের এই তর্পণ এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। দুই দলের নেতাদের মধ্যে এই বাকযুদ্ধ পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।
