সম্প্রতি কর্নাটকের এক মন্ত্রী গরুচোর সন্দেহভাজনদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, গরুচোর সন্দেহ হলেই মাঝরাস্তায় দাঁড় করিয়ে গুলি করা হবে। এই মন্তব্যটি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলো এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ধরনের মন্তব্যকে আইনবহির্ভূত ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
মানবাধিকার কর্মীরা উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের মন্তব্য সমাজে হিংসা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বাড়াবে। তারা আরও বলেন, গরুচুরির অভিযোগে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র বিচার বিভাগের রয়েছে, কোনো ব্যক্তির নয়।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের মন্তব্য আইন ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে, কর্নাটক সরকার এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের মন্তব্য সরকারের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে গরুচুরির অভিযোগে গণপিটুনি ও হত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নড়াইলে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, এ ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে। তারা আরও বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা রোধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
