নেতৃত্ব কার হাতে? দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও আপের পরাজয়ের পর এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। ইন্ডিয়া জোটের প্রতিষ্ঠাকালে বিরোধীরা হাতে হাত মিলিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিল। কিন্তু এক বছর কাটতে না কাটতেই সেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আপের পরাজয়, কংগ্রেসের ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে এবার কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই হতে চলেছেন বিরোধী জোটের মুখ?
লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়া জোটে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে কংগ্রেস (৯৯টি), সমাজবাদী পার্টি (৩৭টি) এবং তৃণমূল (২৯টি)। তবে কংগ্রেসের টানা পরাজয়ে জোটের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দিল্লিতে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল আপকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু বিজেপির দাপটে আপ পরাস্ত হওয়ায় কেজরীবালের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। কংগ্রেসও একটিও আসন না পাওয়ায়, নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের একাংশের দাবি, ইন্ডিয়া জোটকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই সেরা মুখ। দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী মুখ করা উচিত।” যদিও কুণাল ঘোষ বলেন, এটা কল্যাণদার মত। তবে বাংলার উন্নয়ন মডেলই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পথ দেখাচ্ছে।
রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ‘ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া ইজ ইন্দিরা’ বলা হতো। এবার কি ‘মমতা ইজ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া ইজ মমতা’? তবে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্বই টলমল। কংগ্রেস-তৃণমূল সংঘাত বাড়লে মমতার গুরুত্ব কমবে।
ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব নিয়ে এই টানাপোড়েন কি বিরোধী ঐক্যকে আরও দুর্বল করবে? নাকি নতুন সমীকরণে সামনে আসবেন মমতা? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা দেশ!
