সিবিআই কি আদৌ সাহস দেখাবে? তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপানউতোর রাজনৈতিক মহলে
রাজ্যের চাকরি দুর্নীতি মামলায় ক্রমশই বাড়ছে বিতর্ক। চারটি চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেও সিবিআই শুভেন্দু অধিকারীর নাম কেন এড়িয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। চাকরি বিক্রির মূল কেন্দ্র হিসেবে শান্তিকুঞ্জ, শান্তিনিকেতন ও কালীঘাটের নাম উঠে আসলেও, শুধুমাত্র সওকত মোল্লা, মমতাবালা ঠাকুর, ভারতী ঘোষ, মিহির গোস্বামী ও দিব্যেন্দু অধিকারীর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এড়িয়ে যাওয়া কি সত্যিই সম্ভব? নাকি রাজনৈতিক সমীকরণ বজায় রাখতে সিবিআই ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে আড়াল করছে?
বিরোধীদের অভিযোগ, এই দুর্নীতির অন্যতম পাণ্ডা শুভেন্দু অধিকারী। চাকরি কেনাবেচার অন্যতম কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও মেদিনীপুর সংলগ্ন অঞ্চলে তার প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট। কিন্তু বিজেপির বর্তমান রাজনীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা বড় নামগুলিকে ছুঁতে পারছে না।
সিবিআইয়ের ভূমিকা ঘিরে সন্দেহ, পরবর্তী চার্জশিট কী বলবে?
বিরোধীদের আরও অভিযোগ, সিবিআই যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করত, তবে শুভেন্দুকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই হত। কিন্তু চারটি চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেও তার নাম না আসায় অনেকেই মনে করছেন, সিবিআই রাজনৈতিক চাপের মুখে কাজ করছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব কি আদৌ শুভেন্দুকে রক্ষা করছে? নাকি তদন্তকে ধীর গতিতে চালিয়ে তার নাম চার্জশিটে না তোলার পরিকল্পনা হচ্ছে?
প্রশ্ন উঠছে, সিবিআই কি আদৌ সাহস দেখিয়ে শুভেন্দুর নাম পরবর্তী চার্জশিটে আনবে? নাকি রাজনৈতিক চাপের কারণে এই তদন্তও শেষ পর্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট প্রমাণিত হবে? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে— বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব আদৌ কি চায় শুভেন্দুর নাম সামনে আসুক? নাকি মোদী-শাহের অনুমতি ছাড়া সিবিআইয়ের পক্ষে এত বড় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়?
বিরোধীদের কটাক্ষ! সিবিআই কি বিজেপির হাতের খেলনা?
তৃণমূল কংগ্রেস সহ একাধিক বিরোধী দল ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করে বলেছে, সিবিআই এখন নিরপেক্ষ সংস্থা নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের হাতের পুতুল হয়ে উঠেছে। যাকে ইচ্ছে গ্রেফতার করছে, আর যাকে আড়াল করতে চাইছে, তাকে চার্জশিটে রাখার সাহস দেখাচ্ছে না।
বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, সিবিআই স্বাধীনভাবে কাজ করছে, রাজনৈতিক রং না দেখেই তদন্ত করছে। শুভেন্দুর নাম থাকলে তদন্ত অনুযায়ী তা প্রকাশ পাবে। কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন, সিবিআই কি সত্যিই স্বাধীন? তাহলে শুভেন্দুর নাম কেন চার্জশিটে নেই?
রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, চাকরি দুর্নীতির তদন্ত শেষ পর্যন্ত সত্যিই কি সুবিচার দেবে, নাকি সবকিছু রাজনীতির ছত্রছায়ায় হারিয়ে যাবে? আপাতত নজর সিবিআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
