রাজ্যের বিধানসভায় সোমবার নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী স্পিকারের দিকে কাগজ ছুড়ে মারলেন! বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সরস্বতী পুজোয় বাধা দেওয়া হয়েছে, আর সেই বিষয়েই বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়। কিন্তু আলোচনার অনুমতি না মেলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সকালে অধিবেশন শুরু হতেই বিজেপি বিধায়করা সরস্বতী পুজো প্রসঙ্গে আলোচনা চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়করা আলোচনার দাবি তোলেন। কিন্তু স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে রাজি হননি। ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারী সহ বিজেপির বাকি বিধায়করা নিজেদের আসনের সামনে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ‘হিন্দুবিরোধী সরকার’, ‘জেহাদিদের সরকার’ বলে স্লোগান উঠতে থাকে।
হঠাৎই শুভেন্দু অধিকারী নিজের আসন ছেড়ে উঠে এসে স্পিকারের আসনের সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। উত্তেজিত হয়ে তিনি বিধায়কদের দেওয়া হাউসের নথিপত্র ছিঁড়ে তা স্পিকারের দিকে ছুড়ে মারেন। এই ঘটনায় বিধানসভায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই স্পিকার বলেন, “এই আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিধানসভার শৃঙ্খলা ভঙ্গের এই ঘটনা নজিরবিহীন।” তিনি ঘোষণা করেন, শুভেন্দু অধিকারী, বিশ্বনাথ কারক, বঙ্কিম ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পালকে বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। যদিও কতদিনের জন্য এই সাসপেনশন কার্যকর থাকবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
এই ঘটনায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, রাজ্য সরকার পরিকল্পিতভাবে সরস্বতী পুজোয় বাধা দিচ্ছে, আর বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিধানসভার পরিবেশ কলুষিত করছে। আগামী দিনে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।
