পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির চার বিধায়ককে এক মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পাল, বঙ্কিম ঘোষ ও বিশ্বনাথ কারকের বিরুদ্ধে বিধানসভার শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই শুভেন্দু সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “এই সরকার দুর্গা, কালী ঠাকুর ভাঙা সরকার। হিন্দুদের ধর্মাচরণে বাধা দেওয়ার জন্যই আমাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।”
সরস্বতী পুজোর অনুমতি সংক্রান্ত বিতর্ক থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত। বিজেপি বিধায়কদের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সরস্বতী পুজো করতে বাধা দেওয়া হয়েছে, এমনকি পুলিশ নামিয়ে পুজো বন্ধের চেষ্টাও হয়েছে। এই ইস্যুতে বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব আনতে চেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু তা খারিজ হওয়ায় বিধানসভার ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
বিক্ষোভের সময় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি স্পিকারের দিকে কাগজ ছুড়ে মারেন। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সরকারি কাগজ ছিঁড়ে স্পিকারের দিকে ছোড়া হয়েছে, যা শৃঙ্খলাভঙ্গের পর্যায়ে পড়ে। এরপর মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ বিধায়কদের সাসপেনশনের প্রস্তাব আনেন এবং তা গৃহীত হয়।
শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “তৃণমূল সরকার মুসলিম লিগ ২ সরকার। হিন্দুদের হয়ে কথা বললেই আমাদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। বিধানসভা থেকে বের করলেই সত্য চেপে রাখা যাবে না।” তিনি দাবি করেন, বিধানসভায় তিনি কাগজ ছুড়েননি, বরং কার্যবিবরণীর কাগজ ছিঁড়েছেন।
এই নিয়ে ২০২১ সালের পর থেকে চতুর্থবার বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড হলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন।
