হতেই পারে, কিছু স্মৃতি আপনাকে তাড়া করে ফিরছে। বারবার মনে পড়ে যাচ্ছে পুরনো দুঃখ, ব্যর্থতা কিংবা অপমানের মুহূর্ত। নিজেকে ব্যস্ত রেখে ভুলে যেতে চাইছেন, কিন্তু সত্যিই কি তা সম্ভব? গবেষণা বলছে, ভুলে যাওয়ার সহজ উপায় লুকিয়ে আছে ঘুমের মধ্যে!
সম্প্রতি সাইকোলজিক্যাল অ্যান্ড কগনিটিভ সায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষকদের মতে, ভালো স্মৃতিগুলোকে উজ্জ্বল করতে এবং তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলোর প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে পর্যাপ্ত ঘুম। আমাদের মস্তিষ্কে স্মৃতিগুলো জমা থাকে, কিন্তু নেতিবাচক স্মৃতিগুলো বেশি প্রভাব ফেলে। ক্রমাগত দুঃখজনক স্মৃতি মনে পড়তে থাকলে তা মানসিক অস্বস্তির সৃষ্টি করে। কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে মস্তিষ্ক নিজেই অপ্রয়োজনীয় স্মৃতিগুলোকে দূরে সরিয়ে দেয়।
মুম্বইয়ের কোকিলাবেন হাসপাতালের সাইক্রিয়াট্রি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ পার্থ নাগড়া জানিয়েছেন, আমাদের স্মৃতিশক্তি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভালো ঘুম অত্যন্ত জরুরি। এটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান, যা ধীরে ধীরে নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের মস্তিষ্কে একটি প্রক্রিয়া চলে, যাকে বলা হয় ‘সিনাপটিক প্রুনিং’। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় চিন্তাগুলো সরিয়ে এক ধরনের নিরপেক্ষ অবস্থান তৈরি হয়। একই সঙ্গে ভালো ঘুম স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল নিয়ন্ত্রণে রাখে, যা মানসিক চাপ কমায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের রুটিন ঠিক রাখলে অনেক সমস্যা থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। মেডিটেশন বা থেরাপির মতোই ঘুমের ক্ষেত্রেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা দরকার। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।
তাই অতীতের কষ্ট ভুলতে চাইলে ও ভালো স্মৃতি ধরে রাখতে চাইলে, এখনই ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।
