ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের জটিলতা ও উত্তেজনা নিরসনে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী—বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)—একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া এই সম্মেলনটি ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এটি উভয় দেশের মধ্যে ৫৫তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলন।
সম্মেলনে বিজিবি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, এবং বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মহাপরিচালক দলজিৎ সিং চৌধুরী। মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্তে বেড়া নির্মাণ, সম্প্রতি বিএসএফ ও বেসামরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, এবং সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা। উভয় পক্ষই সীমান্ত-সম্পর্কিত সমস্যা সমাধান এবং সমন্বয় বৃদ্ধির জন্য এই সম্মেলনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটি দুই দেশের মধ্যে প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা তিক্ত হয়ে উঠেছিল। নদীর পানিবণ্টন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এছাড়া, সীমান্তে সংঘর্ষ এবং বেড়া নির্মাণ নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে মতবিরোধ ছিল।
সম্মেলনের মাধ্যমে উভয় দেশই এই উত্তেজনা নিরসনে এবং সম্পর্ক উন্নয়নে আশাবাদী। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ, এবং উভয় দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা কমিয়ে আনা এবং উভয় দেশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সম্মেলনের ফলাফল উভয় দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সম্মেলনের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
