ভারতে এই মাসেই শেষ হয়েছে অ্যারো ইন্ডিয়া-২০২৫। এই সময়ে, ভারতীয় কোম্পানিগুলির ড্রোন এবং অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি অনেক দেশকে অবাক করে তুলেছে। ভারতীয় ড্রোন প্রযুক্তিতে তাদের গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে ককেশীয়, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় এবং আফ্রিকান দেশগুলি। মনে করা হচ্ছে যে, এই বিমান প্রদর্শনী অনেক দেশের জন্য ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের দরজা খুলে দিয়েছে। ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার। এবার সেই দিকে একটি বড় পদক্ষেপ নিল দেশ। খবর অনুযায়ী, ন্যাটো বাজারে প্রবেশের জন্য ভারতীয় কোম্পানিগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করছে। অ্যারো শো চলাকালীন আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় দেখা গেল যে, যুদ্ধবিমানের চেয়ে বেশি চালকবিহীন ড্রোন প্রদর্শিত হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুসারে, ড্রোন তৈরির জন্য চমৎকার প্রযুক্তি রয়েছে ভারতীয় কোম্পানিগুলির কাছে। ভারতীয় প্রযুক্তির প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রযুক্তিগুলির বেশিরভাগই ভারতীয় বাহিনী দ্বারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ভারতীয় প্রতিরক্ষা পরিষেবাগুলি প্রায় ২,৫০০টি সামরিক ড্রোন কিনতে ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করেছে। এবং এখন ভারতীয় ড্রোন বাজার আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করবে বলে আশা করা যায়। ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী দশকের মধ্যে ভারতীয় ড্রোন বাজারের আকার ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হতে পারে।
ভারত সরকার উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প এবং ড্রোন নিয়ম-২০২১-এর মতো নির্দেশিকাগুলির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদনকে দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। ভারত সরকারের ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্পের জন্য ৫৭ কোটি টাকা (৬.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে, বিশেষ করে ড্রোন এবং ড্রোনের উপাদান তৈরির প্রচারের জন্য। গত আর্থিক বছরে ৩৩ কোটি টাকা মুক্তি পেয়েছে। তবে, ভারতের দেশীয় ড্রোন প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি সরকারের কাছ থেকে আরও প্রণোদনা দাবি করছে। বর্তমানে ভারতে ব্যবহৃত ড্রোন যন্ত্রাংশের ৫০-৬০ শতাংশ আমদানি করা হয়। এটিকে ৭০ শতাংশের উপরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারত সরকার।
বর্তমানে, ভারতে প্রায় ৩০০টি ড্রোন প্রস্তুতকারক রয়েছে। কৃষি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা খাত পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য ড্রোন তৈরি করছে। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ড্রোন নেতা হওয়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১ থেকে ১.৫% যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সময়ে, ৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
