২০২৫ সালের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় বাংলাদেশি স্টল না থাকায় অনেক সাহিত্যপ্রেমী হতাশ হয়েছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিবছরই বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলো এই মেলায় অংশগ্রহণ করে আসছিল। কিন্তু এবার, দীর্ঘ ২৮ বছরের ধারাবাহিকতা ভেঙে, বাংলাদেশের কোনো স্টল দেখা যায়নি। পাঠকদের মতে, প্রতিবছরই বাংলাদেশি স্টলে মিলত নানা নতুন বই, যা দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য ছিল এক বড় আকর্ষণ। কিন্তু কলকাতায় এইবারে স্টল না থাকাই বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের
সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।
তবে, এমন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
মহাকুন্ডের দশম আন্তর্জাতিক নৃত্য ও সঙ্গীত উৎসবে বাংলাদেশ থেকে ছয় সদস্যের একটি সাংস্কৃতিক দল অংশ নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে দলটি প্রয়াগরাজে পৌঁছেছে এবং সঙ্গমের ১ নম্বর সেক্টরে গঙ্গা মণ্ডপে তাদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। এবং তারসঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবে রাশিয়া, মঙ্গোলিয়া, কিরগিস্তান, ফিজি, মালয়শিয়া, মলদ্বীপ, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং রাওয়ান্ডাও।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের ডিরেক্টর জেনারেল কে. নন্দিনী সিংলা এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘সংস্কৃতি কখনো থেমে থাকে না। সরকার বদলায়, রাজনীতি পরিবর্তিত হয়, কিন্তু মানুষের হৃদয়ের বন্ধন অটুট থাকে। এটি আবেগের বিষয়, যা রাজনৈতিক সীমারেখার ঊর্ধ্বে।’
এদিকে, বইমেলায় বাংলাদেশের স্টল না থাকার কারণ সম্পর্কে জানা গেছে, এবার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে আবেদন করা হয়নি। তবে মহাকুম্ভে তাদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের চেয়ে শক্তিশালী। এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বিনিময়ের পথ খুলে দেবে।
