নতুন সরকার গঠনের পরেও থামেনি রাজনৈতিক উত্তেজনা। দিল্লি বিধানসভার তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনেই হট্টগোল চরমে উঠল। বিজেপির আনা ক্যাগ রিপোর্টে আপের আমলের আবগারি কেলেঙ্কারি তুলে ধরা হতেই উত্তাল হল অধিবেশন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে এক দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হল আপের ১২ বিধায়ককে, যার মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশিও।
সপ্তাহের শুরুতেই রাজধানীর বুকে তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। বিজেপি আগে থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় এলে আপ সরকারের একাধিক দুর্নীতি সামনে আনা হবে। সেই মতো মঙ্গলবার অধিবেশনের শুরু থেকেই বিধানসভায় বিজেপি একের পর এক অভিযোগ তুলতে থাকে। তবে পাল্টা আক্রমণে নামে আপ বিধায়করা। অধ্যক্ষ থামানোর চেষ্টা করলেও তারা বিরত হয়নি।
এরই মধ্যে বিজেপি বিধানসভায় তাদের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ প্রকাশ করে—আপ সরকারের আমলে হওয়া আবগারি দুর্নীতি নিয়ে ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন। আপ বিধায়করা এর বিরোধিতা শুরু করলে আরও চরমে ওঠে পরিস্থিতি। বিজেপির অভিযোগ, আপ নেতারা দুর্নীতিতে জড়িত, আর আপের পাল্টা অভিযোগ, বিজেপি তাদের শেষ করে দিতে চাইছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় আপ। তারা অভিযোগ তোলে, কেন মুখ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের ঘর থেকে বাবাসাহেব অম্বেডকরের ছবি সরিয়ে সেখানে নরেন্দ্র মোদীর ছবি বসানো হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে বিধানসভায় সরব হয় আপ বিধায়করা, যার ফলে আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে অবশেষে ১২ জন আপ বিধায়ককে এক দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। কিন্তু বিধানসভা থেকে বেরিয়েও তারা থামেনি। বাইরে এসে বাবাসাহেবের ছবি হাতে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে তারা। অতিশি সরাসরি মোদীকে নিশানা করে বলেন, “মোদী কি বাবাসাহেব অম্বেডকরের থেকেও বড়?”
রাজধানীর রাজনীতি যে এই সংঘাতের পর আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
