সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
রাজ্যের শিক্ষা কমিশনার সহ মালদহ ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানদের তিন মাস জেলে পাঠানোর নিদান হাইকোর্টের বিচারপতির।
প্রাথমিক নিয়োগ ২০০৯ সংক্রান্ত মামলায় বিস্ফোরক বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। তিনজনকেই ২ দিনের ডেডলাইন হাইকোর্টের।
শুক্রবারের মধ্যে এজ লাশে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে হবে। কেন তাদের জেলে ভরা হবে না, শেষ সুযোগ হিসেবে জানাতে হবে তাদের। নির্দেশ বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার।
“আদালতের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে এই চেয়ারম্যান আধিকারিকরা। অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে নতুন যুক্তি আসলে চাকরি না দেওয়ার অজুহাত। আত্মঘাতী হলে চাকরি দেবে DPSC গুলি।”- মন্তব্য বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার।
২০০৯ প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মালদহ ও উত্তর ২৪ পরগনায় হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও চাকরি দেয়নি বোর্ডগুলি। ২০০৯ সালে চাকরির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী 2010 সালে এডমিট কার্ড পান চাকরিপ্রার্থীরা। চাকরির পরীক্ষাও হয় কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। ২০১২ সালে পুরনো চাকরির পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করে ফের সমস্ত পরীক্ষার্থীকে নতুনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য এডমিট কার্ড পাঠায় পালাবদলের সরকার। ২০১০ সালে যারা যারা এডমিট কার্ড পেয়েছিলেন তাদের ফের নতুন করে এডমিট কার্ড পাঠানো হয় ২০১২ সালে। ২০১৪ সালে চাকরির পরীক্ষা অনুযায়ী নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়। যদিও মামলাকারীদের অভিযোগ যে পিটিটিআই যোগ্যতা মান থাকা সত্ত্বেও যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে অনেককেই নতুন ভাবে চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে হাইকোর্ট পর্যন্ত জল গড়ায়। প্রাথমিকভাবে হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ নির্দেশ দেয় পিটিটিআই যোগ্যতমান যাদের রয়েছে তাদের যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে নিয়োগপত্র দিতে হবে। পরবর্তীকালে এই মামলা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। প্রাথমিক পর্ষদের আইনজীবী উচ্চতর আদালতে জানান যাদের পিটিটিআই যোগ্যতা মান আছে তাদের যোগ্যতম হিসেবে ধরা হবে এবং নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। স্বাভাবিকভাবেই সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টেই মামলা ফেরত পাঠান এবং হাইকোর্টের নির্দেশকেই মান্যতা দিতে হবে বলে জানায়। আদালতে অনুমতি দিয়ে দুই জেলার প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ জানায় শূন্যপদে যোগ্যদের চাকরি দিতে আপত্তি নেই। যদিও আজ পর্যন্ত আদালতের বিচারে যোগ্যতম মামলাকারী চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগপত্র হাতে পাননি। কেন এমনটা হল? আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন তা পালন করা হচ্ছে না? জানতে চান বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা। জানা যায়, এখনও চাকরি না দিয়ে ২০১০ সালের পরীক্ষারর্থীদের অ্যাডমিট কার্ড চাইছে মালদহ ও উত্তর ২৪ পরগনা DPSC। যেখানে ২০১৪ সালের পরীক্ষা থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া হচ্ছে। আর ঠিক এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি মানথা। ২০১০ সালের পরীক্ষা বাতিল করে যখন 2012 সালে এডমিট কার্ড অনুযায়ী ২০১৪ সালের পরীক্ষা থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া হচ্ছে তখন 2010 সালের এডমিট কার্ডের বাস্তবতা কোথায়? এটা শুধু আদালতের নির্দেশ অবমাননা নয় আদালতের সঙ্গে “খেলা করা হচ্ছে” বলে মনে করছেন বিচারপতি রাজাশেখর মানথা।
