নয়াদিল্লি: অপরাধে দোষী সাব্যস্ত নেতারা কি আজীবন ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না? এই বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার সংসদেরই। তাই আজীবন নিষেধাজ্ঞার দাবি খারিজ করল সরকার।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় আবেদন করেছিলেন, যেসব রাজনীতিবিদ কোনও অপরাধমূলক মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, তারা যেন কখনও ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন। পাশাপাশি, সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিও তোলেন তিনি। বুধবার কেন্দ্র তার হলফনামায় এই আর্জির তীব্র বিরোধিতা করে।
কেন্দ্রের যুক্তি, ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে ছয় বছরের জন্য নির্বাচনে লড়তে পারেন না। এর বেশি নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই। বরং, আজীবন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত সংসদের এক্তিয়ারে পড়ে, আদালতের নয়।
সরকারের বক্তব্য, “এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা নির্বাচন সংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী। জনগণই শেষ কথা বলে, ভোটারদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া উচিত নয়।” ফলে অপরাধী নেতাদের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে সংসদ, আদালত নয়।
অন্যদিকে, অশ্বিনী উপাধ্যায় আদালতে পাল্টা যুক্তি দেন, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে তারা সরকারি চাকরি বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাহলে নেতাদের ক্ষেত্রেই বা আলাদা নিয়ম কেন? কিন্তু কেন্দ্র এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিয়েছে।
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয়, সেদিকেই নজর গোটা দেশের। অপরাধী নেতাদের ভোটে লড়ার অধিকার কি আদৌ কড়া নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বে, নাকি আগের নিয়মই বহাল থাকবে, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।
