নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও তোলপাড়। সিবিআই-এর সাম্প্রতিক তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেআইনি নিয়োগের বিনিময়ে ১৫ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন। তবে চার্জশিটে কোথাও নির্দিষ্ট করে উল্লেখ নেই, কোন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা বলা হচ্ছে।
এই মামলায় আগেই সিবিআই-এর নজরে এসেছেন সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র, ওরফে ‘কালীঘাটের কাকু’। তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার পর, নতুন চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, এক গোপন কথোপকথনে শোনা গিয়েছে, জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেআইনি নিয়োগের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছেন। সুজয়কৃষ্ণর বাড়িতে কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের সময় এই কথোপকথনের রেকর্ডিং হয়। সেই রেকর্ডিং-ই এখন সিবিআই-এর তদন্তের মূল হাতিয়ার।
তবে এখানেই শেষ নয়। চার্জশিটে আরও উল্লেখ, সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র নিজেই বলছেন, তিনি ১৫ কোটি টাকা তুলতে পারেননি। শুধু তাই নয়, কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায় মিলে আরও ২০০০ চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা তোলার ছক কষেছিলেন বলেও অভিযোগ।
এই চার্জশিট প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সঞ্জয় বসু সিবিআই-এর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘‘আমার মক্কেল সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। অথচ ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে সিবিআই অভিষেকের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।’’
যদিও সিবিআই-এর দাবি, সমস্ত তথ্য ও রেকর্ডিং আদালতে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা হবে। এখন দেখার, নিয়োগ দুর্নীতির এই তদন্ত আর কোন কোন নামের পর্দা ফাঁস করে।
