কোন বাস ছাড়বে জিজ্ঞাসা করাতে এক ব্যক্তি একটি দাঁড়িয়ে থাকা বাস দেখায়। প্রথমে উঠতে দ্বিধাগ্রস্ত হলেও, পরে বাসে ওঠেন যুবতী। মুহূর্তের মধ্যে দরজা বন্ধ করে তাঁকে ঝাঁপিয়ে ধরে অভিযুক্ত। একবার নয়, বারবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।
দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে পুণের এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসের মধ্যেই ঘটে এই নৃশংসতা। মঙ্গলবার ভোরে গ্রামে ফেরার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছন নির্যাতিতা। তখনই অভিযুক্তের ফাঁদে পড়েন তিনি। বাসে ওঠার পরই দরজা বন্ধ করে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে, একবার নয়, দুইবার ধর্ষণ করা হয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, শিবসেনা ইউবিটি-র নেতা বসন্ত মোরে দাবি করেছেন, বাসের ভেতরে ছড়িয়ে ছিল প্রচুর কন্ডোম, কম্বল, চাদর! অর্থাৎ, এই ঘটনা প্রথমবার নয়, এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, নিরাপত্তারক্ষীদের মদতেই বাসের ভেতরে এসব কুকীর্তি ঘটে।
প্রতিবাদে রাস্তায় নামে শিবসেনা সমর্থকরা। বাসস্ট্যান্ডে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়, ভাঙচুর চালানো হয় বেশ কয়েকটি বাসে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পুণে।
পরিবহন মন্ত্রী এই ঘটনার জেরে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন। গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে ২৩ জন নিরাপত্তারক্ষীকে। অভিযুক্তকে ধরতে চলছে তল্লাশি। তবে বারবার প্রশ্ন উঠছে, পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থেকে কীভাবে বাসের মধ্যে ধর্ষণের আস্তানা তৈরি হল? পুণের এই নারকীয় ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ড। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নির্যাতিতা, বিচার চাইছে গোটা দেশ।
