মধ্যমগ্রাম দোহারিয়া শৈলেশ নগরের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে মধুমিতা (৩০) ও তার পাঁচ বছরের মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা অবাক হয়ে গিয়েছেন এই রহস্যমৃত্যু নিয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুমিতা ও তার স্বামী সাত বছরের দাম্পত্য জীবন পার করলেও কখনও কোনো ধরনের ঝগড়া-বিবাদ তাদের মধ্যে হয়নি।
তবে শুক্রবার বিকেলে ঘটল এক অস্বাভাবিক ঘটনা। মধুমিতার স্বামী পিচ-বোর্ড কারখানায় কাজ করেন। ওইদিন বিকেল ৪টার সময় ওভারটাইমের কাজে ব্যস্ত থাকার সময় মধুমিতাকে ফোন করেন দুবার। কিন্তু ফোন ধরেননি মধুমিতা। এরপর তার স্বামী পাশের মুদিখানার দোকানে ফোন করে তার খোঁজ নেন। দোকানি জানান, মধুমিতা বাইরে যাননি এবং ঘরের মধ্যে আছেন। এরপর তিনি দ্রুত বাড়িতে পৌঁছান এবং ঘরে প্রবেশ করেন।
ঘরে ঢুকে দেখেন, মেঝেতে পড়ে আছে তার স্ত্রীর ও মেয়ের নিথর দেহ। প্রথমে তিনি বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটেছে। পরে তিনি প্রতিবেশীদের সাহায্যে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল ROMALINDA-তে তাদের নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মৃতদেহ দুটি মধ্যমগ্রাম মাতৃ সদনে নিয়ে যাওয়া হয়।
মধুমিতার স্বামী, আত্মীয় এবং প্রতিবেশীরা এই মৃত্যুর পেছনে কী ঘটেছে, তা বুঝে উঠতে পারছেন না। তাদের মধ্যে কোনো তিক্ততা ছিল না, তাদের মধ্যে কোনো অশান্তি ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে কী কারণে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এলাকাবাসী এবং পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন।
এছাড়া, স্থানীয় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কোনো ফৌজদারি ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন দিকে তদন্ত চলছে।
এলাকার মানুষদের মধ্যে একটি আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে। কেউই এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর কারণ বুঝে উঠতে পারছেন না। পরিবার এবং প্রতিবেশীরা আশা করছেন, পুলিশ তদন্ত চালিয়ে ঘটনার আসল কারণ বের করবে।
