সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার বাড়ি প্রকল্পকে সামনে রেখে বাজিমাত করতে চান তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সে কারণেই ধীরগতি নয়, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের আগেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সুফল রাজ্যবাসীকে পাইয়ে দিতে বদ্ধপরিকর রাজ্য প্রশাসন। বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় গৃহ নির্মাণের চলতি আর্থিক বছরের লক্ষ্যমাত্রা যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকার জেলাগুলিকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। বেশ কিছু জেলায় ওই প্রকল্পে ধীরগতি দেখা গিয়েছে । সেই জেলা গুলিকে ৩১ এ মার্চের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করতে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর নির্দেশ দিয়েছে। দফতরের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের ২১ টি জেলায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার ২১৫ টি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে ৫০ হাজার ৪৪৩ টি বাড়ি লিন্টন পর্যন্ত তৈরি হয়েছে। তবে বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া ১২ লক্ষ উপভোক্তার মধ্যে ৩২ হাজার ৯৮০ জনের বাড়ির নির্মাণ এখনও শুরু হয়নি, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১০.৫ শতাংশ । চলতি অর্থ বর্ষের মধ্যেই যাতে ১০০ শতাংশ উপভোক্তার বাড়ি তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বাংলার বাড়ি নির্মাণে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও মালদা জেলাগুলিতে বাড়ি তৈরির কাজ ধীরগতিতে চলছে । পাশাপাশি, নির্মাণকাজের তদারকি ও পরিদর্শনের সংখ্যাও কম । এই পরিস্থিতিতে জেলাগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জলপাইগুড়ি, হাওড়া এবং পূর্ব বর্ধমানে বাড়ি তৈরির কাজের গতি সন্তোষজনক । এই তিন জেলায় ৫ শতাংশেরও কম বাড়ির নির্মাণকাজ বাকি বলে পঞ্চায়েত দফতর জানিয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দকৃত টাকা যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খরচ করা হয় সে বিষয়ে নবান্ন থেকে সমস্ত জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। আগামী বছর পহেলা এপ্রিল থেকে সরস অর্থ কমিশন কার্যকরী হবে। সে ক্ষেত্রে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দেকৃত টাকার পারফর্মেন্স দেখে সরস অর্থ কমিশনের টাকা বরাদ্দ করা হবে। ইতিমধ্যেই ষোস অর্থ কমিশনের প্রতিনিধিদল নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে গিয়েছেন এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত টাকার কাজী কোথায় কোথায় এখনো বকেয়া রয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে। সুরস অর্থ কমিশনের বরাদ্দকৃত টাকায় রাজ্যে যাতে কোথাও কোনো শান্তি না থাকে সেজন্যই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দকৃত টাকার সম্পন্ন কাজে লাগাতে দ্রুতগতিতে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত বকেয়া কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনগুলোকে।
