নারী দিবসের দিনে এমন দুই নারীর গল্প আজ যাঁরা নিজেদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন ঘরে বাইরে সর্বত্র। আর এই লড়াইতে সামিল হতে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে জল জীবন মিশন। এই দুই নারী বীরভূম জেলার দুই প্রান্তে থাকেন।
বুলু কর্মকারের লড়াই
যেমন প্রথম নারী থাকেন বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজার ব্লকের মৌলপুর গ্রামে। জন্ম থেকেই বোবা মেয়ে বুলু কর্মকার। বোবা হলেও তার বিয়ে হয়। সে বিয়ে হবার পর একটা নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো নতুন সংসার পেতে বাঁচার স্বপ্ন। বিয়ের পর তার দুটি মেয়ে হয়। বর্তমানে তারা দুজনেই পড়াশোনা করে। কিন্তু পর পর দুটি কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে তাঁকে ছেড়ে চলে গেলো তাঁর স্বামী একদিন। কারণ একটাই কেনো পর পর দুটি মেয়ে জন্মেছে তার কোলে এটাই তার অপরাধ। তখন থেকেই নতুন করে শুরু হলো বুলুর আর এক জীবন সংগ্রাম। বাঁচার জন্য লড়াই দুই মেয়েকে নিয়ে। যে লড়াই করতে সে ভয় পায়নি কোনওদিন। যে স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিল সে বিয়ের পর সেই স্বপ্ন কবেই ভেঙে গেছে তাঁর জীবনে একদিন। এখন আবার নতুন করে তাঁর স্বপ্ন দেখা শুরু। দুই মেয়েকে মানুষ করার স্বপ্ন। লোকের বাড়ী কাজ করে সেই স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করা তাঁর কঠিন লড়াই করে। আর সেই লক্ষ্যে তাঁর এগিয়ে চলা। দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ তৈরি করতে। বুলু মুখে বলতে পারে না সেই তার মনের কথা। শুধু এটা জানে যে তার এই প্রতিদিনের এই লড়াইতে এই ঘরে ঘরে জল পৌঁছে যাওয়ায় তার অনেক সুবিধা হয়েছে অনেক উপকার হয়েছে। যার জন্য জল জীবন মিশনকে সে সাধুবাদ জানিয়েছে।
এগিয়ে চলেছেন নবিতুন নিশা খাতুন
গল্পের দ্বিতীয় নারী হলেন বোলপুর লায়েকবাজারের বাসিন্দা নবিতুন নিশা খাতুন। বোলপুর কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বয়সের সঙ্গে তার বুদ্ধির বিকাশ হলেও শারীরিক বৃদ্ধি হয়নি তার।তাঁর একটা হাতও নেই।কিন্তু হার মানতে নারাজ সে। সমাজে সবাই তাকে নিয়ে হাসাহাসি করলেও সে নিজের লক্ষ্যে অবিচল।সে জানে প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার মধ্যে দিয়েই আসবে সাফল্য।সমাজের কিছু মানুষ আছেন যারা নিজেরাও কূপমণ্ডূক হয়ে থাকতে ভালবাসেন আবার অন্যেরা এগিয়ে যাক তা চান না।সেই প্রতিকূলতা ভেঙেই এগিয়ে চলছেন নবিতুন নিশা খাতুন।এক বছর হলো তার বাড়িতে জল এসেছে জল জীবন মিশনের জন্য। আগে অন্যের বাড়িতে জল আনতে গিয়ে অনেক গঞ্জনা সহ্য করতে হতো তার আম্মীকে। আজ তার জীবনের মান অনেক উন্নত করে দিয়েছে এই জল জীবন মিশনের জল। খুশির ছোঁয়া এনে দিয়েছে তাদের পরিবারে।
