সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
———-‐——–
শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে অবশেষে পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈঠকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যাদবপুরের পড়ুয়াদের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বৈঠকের ডাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বৈঠকে ডাক পেয়েছেন পড়ুয়াদের দুই প্রতিনিধিও। গত ন’দিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলা অচলাবস্থা কাটাতে এই বৈঠক ফলপ্রসূ হতে পারে বলে আশাবাদী শিক্ষক-পড়ুয়ারা।
সোমবার দুপুর ১টার মধ্যে এগ্জ়িকিউটিভ কাউন্সিল (ইসি)-এর বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছিলেন বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই কর্তৃপক্ষের বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্তকে “পড়ুয়াদের নৈতিক জয়” বলেও মনে করছেন ছাত্রছাত্রীরা। বৈঠকে পড়ুয়াদের দুই প্রতিনিধি ছাড়াও রয়েছেন সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ডিন অফ স্টুডেন্টস এবং বিভিন্ন বিভাগের ডিন-রা। বৈঠকে নেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত। রবিবার বিকেলেই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি।
তবে ছাড়া পেলেও আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন না যাদবপুরের উপাচার্য। কোনও প্রকার উত্তেজনা কিংবা মানসিক চাপে ভাস্করের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
শনিবারই এই বৈঠকের বার্তা দেন ভাস্কর গুপ্ত। একই মর্মে বার্তা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন জুটাও। এর পরে সুর ‘নরম’ করেন পড়ুয়ারাও। শনিবারই অসুস্থ উপাচার্যকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন কয়েক জন ছাত্র। ফলে এই বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের দাবিদাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন, না কি ছাত্রদের আন্দোলন আরও তীব্র হবে, সে নিয়েই চলছে জল্পনা। একইসঙ্গে তৃণমূল প্রভাবিত অধ্যপক সংগঠন ওয়েবকুপার ভূমিকা কি হয় সেদিকেও নজর থাকছে।
যদিও বৈঠকে সদর্থক পদক্ষেপ করা না-হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন পড়ুয়ারা। অরবিন্দ ভবনে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের অফিস-সহ বিভিন্ন দফতর ওই দিন বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে পড়ুয়াদের যাতে কোনও অসুবিধা না-হয়, সে কথা মাথায় রেখে ‘কন্ট্রোলার অফ এগ্জ়ামিনেশন’ অফিস এবং বৃত্তি বিভাগ (স্কলারশিপ সেকশন)-কে এর আওতায় রাখা হচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।
গত ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বেশ কয়েক জন পড়ুয়া তাঁর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। দাবি, অবিলম্বে ছাত্র সংসদের নির্বাচন করাতে হবে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের হামলায় ভাঙে ব্রাত্যের গাড়ির কাচ। আহতও হন শিক্ষামন্ত্রী। শুধু ব্রাত্য নন, অধ্যাপক তথা তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার সদস্য ওমপ্রকাশ মিশ্র-সহ আরও কয়েক জন আক্রান্ত হন। অন্য দিকে, বামেদের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের অভিযোগ, ব্রাত্যের গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন পড়ুয়ারা। সেই ঘটনার প্রতিবাদে ১ মার্চ থেকে রাস্তায় নামে পড়ুয়াদের একাংশ। গত সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে ক্লাস বয়কট। বিক্ষোভকারীদের দাবি, উপাচার্যকে দেখা করতে হবে তাঁদের সঙ্গে। কথা বলতে হবে তাঁদের দাবিদাওয়া নিয়ে। যদিও অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ভাস্কর। তাই সশরীরে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি। তবে হাসপাতাল থেকেই ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা কাটাতে পড়ুয়াদের অনুরোধ করেন উপাচার্য।
এখনও যাদবপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন যাদবপুরের পড়ুয়া ইন্দ্রানুজ রায়। ইন্দ্রানুজের চিকিৎসার খরচ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবেন বলেও ইন্দ্রানুজের বাবাকে অগেই জানিয়েছিলেন যাদবপুরের উপাচার্য।
