একটি নির্দিষ্ট রাসায়নিকের আমদানির ওপর শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার। অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা ও বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে সরকার এই নীতি কার্যকর করল, যা মূলত চিন ও জাপান থেকে আসা এই রাসায়নিকের ওপর প্রভাব ফেলবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ‘ট্রাইক্লোরো আইসোসায়ানিউরিক অ্যাসিড’ নামের এই রাসায়নিক প্রধানত জল পরিশোধনের কাজে ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় বাজারে এই উপাদানের চাহিদা বেশি, আর তা মূলত চিন ও জাপান থেকেই আমদানি করা হয়। নতুন শুল্ক নীতির আওতায় নির্ধারিত হয়েছে যে, আমদানি করা প্রতিটি টনের জন্য ৯৮৬ ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
অর্থ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে। সরকারের মতে, এর ফলে দেশীয় শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় উৎপাদকরা আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছতে পারবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রকের আওতাধীন ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ট্রেড রেমেডিজ’ (ডিজিটিআর) এর আগে এই রাসায়নিকের আমদানি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের মতে, বিদেশি রাসায়নিকের সহজলভ্যতা দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। বাজারে সঠিক প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে এই শুল্ক আরোপ করা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারও মনে করছে, এই শুল্ক বিদেশি রাসায়নিকের অপ্রয়োজনীয় আধিপত্য কমিয়ে দেশীয় উৎপাদকদের জন্য ন্যায্য পরিবেশ তৈরি করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন ও জাপান থেকে আমদানিকৃত কিছু কিছু পণ্য ভারতীয় বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করছে। ডিজিটিআরের তদন্তের পর কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই বিশেষ রাসায়নিকের ক্ষেত্রে ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক’ আরোপ করা হবে। এই ধরনের শুল্ক মূলত এমন পরিস্থিতিতেই আরোপ করা হয়, যখন কোনো নির্দিষ্ট দেশ থেকে কম দামে পণ্য আমদানি হওয়ার ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে, এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
চিন ও জাপান ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশ দুটি থেকে ভারতে প্রচুর পণ্য আসে এবং ভারত থেকেও বিপুল পরিমাণ সামগ্রী সেখানে রফতানি হয়। এদিকে, সম্প্রতি ভারতের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে ভারত আমেরিকান পণ্যের ওপর অস্বাভাবিকভাবে বেশি শুল্ক আরোপ করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশের সীমাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের উচ্চ শুল্কের কারণে মার্কিন সংস্থাগুলোর জন্য ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কেমন হয়, তা নিয়ে এখন চলছে বিশ্লেষণ। ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নীতির ওপর এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নজরে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
