বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় নদী ভাঙনের ভয়াবহ দৃশ্য নতুন নয়। জলস্তর বৃদ্ধি পেতেই তীব্র স্রোতে ভেঙে পড়ে নদীর পাড়, একের পর এক গ্রাম চলে যায় নদীর গর্ভে। বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে, চাষের জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয় কৃষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই সমস্যা এখনও সম্পূর্ণভাবে রোধ করা যায়নি।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য সরকার এবার ভাঙন প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চলেছে।
বুধবার বিধানসভায় এই বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানান, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি বিধায়ক গোপাল সাহা প্রশ্ন তোলেন, এতদিন ধরে বারবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কেন এখনও স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি? জবাবে সেচমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, রাজ্য সরকার নিয়মিত ভাঙন মোকাবিলার চেষ্টা চালালেও কেন্দ্রের আর্থিক সহযোগিতা না থাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে।
নদী ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পথে হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। নদীর প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কীভাবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়, সেই দিকেই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, শুধু অস্থায়ী প্রতিরোধ নয়, এমন ব্যবস্থা করা যাতে ভবিষ্যতে ভাঙনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
এই ইস্যুতে কেন্দ্রের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতি বছর অসংখ্য পরিবার নদীর ভয়ংকর গ্রাসে সবকিছু হারাচ্ছে, অথচ কেন্দ্রীয় সরকার থেকে কোনও অর্থসাহায্য মিলছে না। সেচমন্ত্রীর দাবি, রাজ্য সরকার বারবার কেন্দ্রের দোরগোড়ায় কড়া নাড়লেও এখনো পর্যন্ত কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি বলেন, “নদী ভাঙন রোধে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনও দায়িত্ব নিচ্ছে না, বরং অর্থ বরাদ্দ আটকে রেখে রাজ্যের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।”
বিজেপি বিধায়কদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি সত্যিই এই সমস্যার সমাধান চান, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন, যাতে প্রয়োজনীয় অর্থ দ্রুত বরাদ্দ করা হয়।”
“মানুষের দুর্দশাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে লাভ নেই, বাস্তব পদক্ষেপ নিলেই পরিবর্তন সম্ভব।”
তবে রাজ্য সরকার ঠিক কীভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি সেচমন্ত্রী। সেচমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চায়। প্রয়োজনে রাজ্য নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করে উদ্যোগ নেবে, যাতে ভাঙন সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়।
উল্লেখ্য, এর আগেও ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে। রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রীয় অনুদান না মেলায় সেই প্রকল্প থমকে রয়েছে। এবার মালদহ ও মুর্শিদাবাদে নদী ভাঙন রোধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ তুলেছে রাজ্য সরকার।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
