তারাপীঠ মন্দির চত্বরে একটি অননুমোদিত নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই নির্মাণ মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ ও ঐতিহ্যকে ব্যাহত করতে পারে। অভিযোগ উঠেছে, অনুমতি ছাড়াই সেখানে স্থায়ী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে। এই ইস্যুতে ন্যায়বিচার ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলাকারীর দাবি, নির্মাণকাজটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। এটি বন্ধ না হলে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ এই নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করছেন এবং প্রশাসনের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টি.এস. শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করেন। আদালতের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়েছে।
তিনি আদালতের নজরে বিষয়টি তুলে ধরে অনুরোধ করেন, অবৈধ নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হোক এবং দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা হোক।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যেখানে আবর্জনা ফেলা হতো, সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে কংক্রিটের স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বীরভূম জেলা বিজেপি এই নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সামিল হয়। তারা সরাসরি ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে এবং খনন করা গর্তে মাটি ফেলে কাজ ব্যাহত করার চেষ্টা করে।
বিজেপির দাবি, যে জায়গায় এই অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, তা বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সমাধিস্থল। এটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যেখানে নির্মাণকাজ করা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তাদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পটি সেচ দফতরের অনুমোদিত এবং এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থেই নির্মাণকাজ চলছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই নির্মাণের উদ্দেশ্য ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানা নয়, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের সুবিধার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, উন্নয়নের স্বার্থেই এই কাজ করা হচ্ছে এবং এতে কোনও ধর্মীয় সম্প্রদায়কে অপমান করার অভিপ্রায় নেই।
তবে মামলাকারীর মতে, এতদিন ওই এলাকায় শুধুমাত্র শ্মশান ছিল, অন্য কোনও স্থাপনা সেখানে আগে ছিল না। বর্তমানে ওই স্থানে স্থায়ী কংক্রিটের কাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে। এর ফলে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি রুখতে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে অবিলম্বে নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
