কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে দোল উৎসবের আনন্দ বিষাদে পরিণত হল এক মর্মান্তিক ঘটনায়। অভিযোগ, ৬ বছরের এক নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবারের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
যখন গোটা এলাকা রঙের উৎসবে মেতেছিল, তখন মেখলিগঞ্জের চ্যাংড়াবান্ধা এলাকায় ঘটে এই নৃশংস ঘটনা। নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে খেলতে বেরিয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় এক যুবক ঘুড়ি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এবং পাঁচ টাকা দিয়ে ভুলিয়ে তাকে নিয়ে যায়। এরপর মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। নাবালিকা যখন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফেরে এবং তার মাকে সব জানায়, তখন এই ভয়ঙ্কর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশীরা হতবাক এবং ক্ষুব্ধ। এক প্রতিবেশী মহিলা জানান, ঘটনার পর তিনি নাবালিকাকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁর দাবি, ধর্ষণের ফলে নাবালিকার যৌনাঙ্গ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। দিনের আলোয় এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার রাতেই নাবালিকার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে যান। খবর পেয়ে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছায়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী ওই যুবকের বিরুদ্ধে মেখলিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মেখলিগঞ্জ থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং নাবালিকার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
