সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
চলতি বছরেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। এবং তার পরেই আগামী বছরে পশ্চিমবঙ্গ সহ চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে একই এপিক কার্ডে একাধিক ভোটার এই ইসুটি শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয় গোটা দেশের কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া মঞ্চের অন্যতম মুখ তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন কে একহাত নিয়েছেন এবং তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একাধিকবার তৃণমূলের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে এই ইস্যুতে দরবার করেছেন। তৃণমূলের তোলা লোকসভা সরগরম হয়েছে। তৃণমূলের তাবীকে সমর্থন জানিয়েছে রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস, বিজু জনতা দল সহ বিরোধীপক্ষের অধিকাংশরাই। লোকসভায় দফায় ওয়াক আউটও হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে একই এপিক কার্ডে একাধিক ভোটার বা ভুতুড়ে ভোটার ইস্যুতে রাস আলগা হতে দিতে নারাজ। তৃণমূল কংগ্রেস। আর সে কারণেই আগামী ২২ মার্চ তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের ডাকে চেন্নাইতে সর্বদল বৈঠকে তৃণমূলের যোগদান নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে ডাকা এই সর্বদল বৈঠকে তৃণমূল যোগ দেবে কিনা তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি দলের শীর্ষস্তরে। প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনের সীমা পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহ সাত মুখ্যমন্ত্রীকে ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়ে এই সর্বদল বৈঠকে যোগদানের আবেদন জানিয়েছেন স্ট্যালিন। ডিএমকে শীর্ষ নেতার মতে, সীমানা পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো আঘাত করছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই সংসদের ভিতরে ও বাইরে এ নিয়ে দায় আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ডিএমকে। সংসদের এই আন্দোলনে কংগ্রেসকে পাশে পেলেও এখনো পর্যন্ত তৃণমূলকে সেভাবে সাহচর্য দিতে দেখা যায়নি। উল্লেখযোগ্য ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। আর তারপরেই দেশজুড়ে হবে জনগণনা। যার ভিত্তিতে লোকসভার সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হবে। বর্তমান জনসংখ্যা অনুযায়ী লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়বে এটা নিশ্চিত। ১৯৭১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভায় যে ৫৪৩ টি আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়েছিল তখন দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫ কোটি। বর্তমানে সেই সংখ্যা ১৪০ কোটির কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি অপরিহার্য। এম কে স্ট্যালিনের বক্তব্য অনুযায়ী, যেহেতু দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করেছে সেহেতু লোকসভার আসন পুনর্ববেন না আসলে দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ু সহ প্রায় সব রাজ্যেই আসন সংখ্যা কমবে। উল্টোদিকে উত্তর ভারত তথা হিন্দি বলায় যেহেতু জনসংখ্যার চাপ বেশি তাই ওই রাজ্যগুলোতে আসন সংখ্যা বাড়বে। যদিও সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে লোকসভার সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ৩-৪ টি লোকসভা আসন কমতে পারে। তবে এই আসন পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি নিয়ে সংযত তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এ বিষয়ে উঠা সঙ্গত প্রশ্নগুলিও এড়িয়ে যাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, লোকসভা নির্বাচনের এখনো ঢের দেরি। তাই আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে ভাববার সময় রয়েছে যথেষ্ট। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গ সহ চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন এবং চলতি বছরের শেষে বিহারের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ভুতুড়ে ভোটার বা একই এপিক কার্ডে একাধিক ভোটারের যে জাতীয় ইস্যুটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরেছেন সেটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক এবং সময়োপযোগী। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে এবং কংগ্রেস সহ সহযোগী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে ভিত্তিতে লোকসভা এবং রাজ্যসভায় এ নিয়ে আলোচনাও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি দফায় দফায় নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে এই ইস্যুতে কমিশনের উপর চাপও বাড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা ইস্যু থেকে নজর ঘুরিয়ে এখনই ডিএমকে-র আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে মাথা ঘামাতে চায় না তৃণমূল কংগ্রেস। তাতে এপিক কার্ড ইস্যুতে তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল অনেকটা লঘু হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা নেতৃত্বের। আর সামগ্রিক পরিস্থিতির বিচারে আগামী ২২ মার্চ এমকে স্ট্যালিনের ডাকা সর্বদল বৈঠকে মমতার যোগদান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
