সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
প্রতি অর্থ বছরের শেষ মাসে অর্থাৎ মার্চের শেষ সপ্তাহে ফিবছর ব্যাংক ধর্মঘট যেন রীতি-রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের মত এবছরেও মার্চের শেষ সপ্তাহে ধর্মঘটের জেরে টানা চারদিন ব্যাংক বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে আগামী ২৪ ও ২৫ মার্চ অর্থাৎ মার্চের শেষ সপ্তাহের প্রথম দুটি কাজের দিন ব্যাংক কর্মীদের ধর্মঘটের জেরে বন্ধ থাকবে দেশের সমস্ত ব্যাংকিং পরিষেবা। তার আগের দু’দিন অর্থাৎ ২২ ও ২৩ মার্চ যথাক্রমে চতুর্থ শনিবার ও রবিবার হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংকগুলির ছুটি থাকে। এমতাবস্থায় ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত টানা চার দিন ব্যাংকগুলোতে কোন পরিষেবা পাবেন না গ্রাহকরা সেই সম্ভাবনাই উজ্জ্বল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সংগঠন ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কর্মী সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাংকস ইউনিয়নের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় ২৪ ও ২৫ মার্চ ব্যাংক ধর্মঘট অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন ব্যাংক ইউনিয়ন নেতৃত্ব। যদিও আগামী ১৮ মার্চ কেন্দ্রীয় শ্রম কমিশনারের সঙ্গে ব্যাংক ইউনিয়ন গুলির যৌথ মঞ্চের বৈঠক রয়েছে। আপাতত সেই বৈঠকের দিকেই তাকিয়ে ব্যাংকিং পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত গ্রাহক ও ব্যাংক কর্মীরা। এদিকে টানা চার দিন ব্যাংক পরিষেবা বন্ধের কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ গ্রাহকরা। বিশেষ করে অর্থ বর্ষের শেষে ব্যাংকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে সাধারণ মানুষের। “সময় বুঝে নিজেদের দাবি দেওয়া আদায়ের নামে ব্যাংক কর্মী ও কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে ফি বছর বিপদের মুখে ঠেলেন। এটাই যেন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে এদেশে”। বলছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
এবারের ধর্মঘটের মূল কারণগুলি মধ্যে শূন্য পদ নিয়োগ হলো অন্যতম ইস্যু। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক পরিষেবায় বহু শূন্য পথ থাকলেও তা পূরণ করা হচ্ছে না। ফলে গ্রাহক পরিষেবায় ব্যাপকভাবে বিঘ্ন ঘটছে বলে দাবি করেছেন কর্মী ইউনিয়নের নেতারা। এরফলে অনেক কম সংখ্যার কর্মীকে দিয়ে অনেক বেশি কাজ করানো হচ্ছে বা কাজের চাপ বাড়ানো হচ্ছে। তাছাড়া পাঁচ দিনের সপ্তাহ চালু করা নিয়ে আইভিএ এবং ইউনিয়নগুলি ইতিমধ্যেই চুক্তিবদ্ধ হলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ। আইভিএ তাদের সুপারিশ কেন্দ্রের কাছে পাঠালেও কেন্দ্রীয় সরকার তা কার্যকর করার কোন উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ ইউনিয়ন নেতৃত্বদের। এক সময় সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পর্ষদে অফিসার ও কর্মীদের প্রতিনিধিরা থাকতেন। অভিযোগ, সেই শূন্যতাও বহুদিন ধরে পূরণ করা হয়নি। সম্প্রতি কেন্দ্রের আর্থিক পরিষেবা দপ্তর কর্মীদের কাজের পর্যালোচনা করে এবং তার ভিত্তিতে উৎসাহ ভাতা চালু করার নির্দেশিকা দিয়েছিল। যদিও সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে কর্মী সংগঠনগুলি।
