বুদ্ধদেব পাত্র
একসাথে এতজন শিল্পীর ছৌ নৃত্য দেখে অভিভূত হলেন রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
দোল পূর্ণিমার দিন বসন্ত উৎসবে মেতেছে রাঙ্গামাটির জেলা। কোথাও বসন্ত উৎসব কোথাও পলাশ উৎসবে রঙ্গিন হয়েছে বন মহলের জেলা। অযোধ্যা পাহাড় কোলের আড়ষা বসন্ত উৎসব উদযাপন কমিটি পরের দিন জেলার ঐতিহ্যবাহী ছৌ নাচকে গুরুত্ব দিয়ে একসাথে ৫০০ ছৌ নৃত্য শিল্পীর ছৌ নাচের মাধ্যমে উদযাপন করলো বসন্ত উৎসব। অভিনব এই ভাবনার রূপকার আড়ষার ভূমিপুত্র তথা পুরুলিয়া জেলা আইএনটিউসির জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার। আড়ষা স্টেডিয়ামের এই বসন্ত উৎসব ঘিরে রাতভর ছিল উন্মাদনা। একসাথে পাঁচশ শিল্পী কার্তিক বেশে নাচ করে আড়ষা স্টেডিয়াম কাঁপান। একসাথে এতজনের ছৌ শিল্পীর ছৌ নাচ দেখে অভিভূত হয়ে যান এবারের বসন্ত উৎসবের মুখ্য অতিথি রাজ্য সভার সাংসদ তথা আইএনটিটিইউটুসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান “রঙের মেলা এরকম একটি অনুষ্ঠানে আসতে পেরে ভালো লাগছে, উজ্জ্বল কুমারকে ধন্যবাদ জানাই”। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাতো সহ সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, বাগমুন্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাতো সহ আরো অনেকে।
প্রতিবছরই অযোধ্যা আড়ষা স্টেডিয়ামে আড়ষা বসন্ত উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে ধুমধাম সরকারের পালন করা হয় বসন্ত উৎসব। যখন রাজ্যজুড়ে বসন্ত উৎসব হয় তখন তার পরের দিন এখানে পালন করা হয় বসন্ত উৎসব। পলাশের জেলার এই বসন্ত উৎসবে গুরুত্ব দেওয়া হয় জেলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি ছৌ নাচকে।এদিন আড়ষা ব্লক ছাড়াও আশেপাশের ব্লকের ৫০০ ছৌ নৃত্য শিল্পী কার্তিকের সাজে মাঠে নেমে ছৌ নাচ করেন। তৈরি হয় বিপুল উন্মাদনা। মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরা ছাড়াও স্টেডিয়ামে আগত দূর-দূরান্তের মানুষ একসাথে এতজন শিল্পীর ছৌ নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে যান।এবারের বসন্ত উৎসবে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বসন্ত উৎসবের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গ টেনে বলেন পাঠ্যপুস্তক থেকে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিচ্ছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যারা রবীন্দ্রনাথের শত্রু, তারা কোনদিন বাঙালির বন্ধু হতে পারেনা। কোন বিজেপি সাংসদকে দেখেছেন এই বিষয়ে প্রশ্ন করতে? রবীন্দ্রনাথকে ২৫ পেরিয়ে ২৬ এ বিধানসভা নির্বাচন। চতুর্থ বারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আবার মুখ্যমন্ত্রী করার জন্য মানুষ সংঘবদ্ধ হচ্ছেন। অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা তথা আইএনটিটিইউসির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার বলেন। প্রতিবছরই দোল পূর্ণিমার পরের দিন এখানে বসন্ত উৎসব পালিত হয়। গত বছরও ছৌ নৃত্যের মাধ্যমে বসন্ত উৎসব উদযাপন হয়েছে। এবার ৫০০ জন ছৌ শিল্পী কার্তিক সেজে ছৌ নৃত্য করেছেন। আগামী বছর আরোও বড়ো পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে দেশ বিদেশ থেকে ঘুরে আসা ছৌ শিল্পীরা নিজের এলাকায় কার্তিক সেজে একসাথে ৫০০ জনের সাথে ছৌ নৃত্য করতে পেরে দারুণ খুশি।
