সন্ত্রাসবাদের স্বর্গরাজ্য পাকিস্তানেই শেষ হয়ে গেল কুখ্যাত সন্ত্রাসী আবু কাতাল। সংবাদমাধ্যমের দাবি পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের ঝিলাম জেলায় মংলা বাইপাসে গাড়ি করে যাওয়ার সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।অজ্ঞাতপরিচয় বন্ধুকধারীর গুলিতেই মৃত্যু হয় তার।কাতালের পাশাপাশি তাঁর গাড়ির চালকেরও মৃত্যু হয়েছে। তবে কাতালকে কারা খুন করল, তা স্পষ্ট হয় নি, হামলাকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি।
কিন্তু কেমন করে কাতালের মত কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে এমন অনায়াসে খুন করা সম্ভব হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।লস্কর-ই- তৈবার শীর্ষ পদে থাকা এই জঙ্গি কী তবে অন্তর্ঘাতের শিকার হলেন? সেই প্রশ্নও উঠছে বিভিন্ন মহলে।কদিন আগে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ঘনিষ্ঠ মুফতি শাহ মীরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা নিয়েও জল্পনা হয়েছে বিস্তর। জঙ্গি বাহিনীর নিজস্ব নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও কাতালের গতিবিধির আগাম খবর ছিল হামলাকারীদের কাছে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু কে এই আবু কাতাল? কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী ফয়সল নাদিম, কাতাল সিন্ধি সহ একাধিক নামে পরিচিতি ছিল।ভারতে একাধিক ভয়াবহ হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল সে।দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তার গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল।২০০৮ সালের মুম্বই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিল এই কাতাল।
নিরীহ অসামরিক নাগরিকদের হত্যা করা ২০১৭ সালে রিয়াসি বোমা বিস্ফোরণের মূল মাথা ছিল এই কাতালই।নাদিম ছিলেন লস্কর-ই-তৈবার হ্যান্ডলারদের মধ্যে একজন, যারা ২০২৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরিতে হামলা চালিয়েছিল। দুই দিন ধরে চলা এই হামলায় সাতজন প্রাণ হারায় এবং অনেকেই আহত হয়। ওই বছরেই জুনে জম্মু ও কাশ্মীরে তীর্থযাত্রীদের বাসে ভয়াবহ হামলা হয় এবং তাতেও বহু তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়, সেখানেরও মূল পরিকল্পনাকারী ছিল এই জঙ্গি আবু কাতাল।ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র এই সংক্রান্ত চার্জশিটে কাতালের নাম রয়েছে।
কাতাল ছিল লস্কর-ই- তৈবার শীর্ষ কমান্ডারদের একজন এবং হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল। কাতাল ওরফে ফয়সল নাদিম হাফিজ সইদের ভাতিজা।পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে লস্কর সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণের ও জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন কাতাল।পাশাপাশি সে ছিল পুঞ্চ-রাজৌরি অঞ্চলে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ ও হামলার মূল সংগঠক।
