আমি খুব কৃতজ্ঞ সেই দু হাজার সাত সালে আমায় কলকাতা থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপর তো কেউ এইভাবে বলেননি। বিশেষ করে কোনো পলিটিশিয়ান এই প্রসঙ্গে কোনো কিছুই বলেননি মুখ খোলেন নি। কিন্তু তিনি বলেছেন তাঁকে আমি অন্তরের ধন্যবাদ জানাই। আর যদি কলকাতায় ফেরা সম্ভব হয় একজন বাঙালি লেখকের কাছে যে নির্বাসিত যার কোনো ঘর নেই যার পায়ের তলায় মাটি নেই তার জন্য এর থেকে বড় সুখবর তো আর হবে না। আমি ১৯৯৪ সালে সেই ইউরোপে চলে গিয়েছিলাম আসলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু বই লেখার কারণে। তো ওখানে আমার ভালো লাগতো না আমি বাংলায় ফিরতে চাইতাম, দেশে ফিরতে চাইতাম। যেহেতু দেশে ফিরতে দেওয়া হতো না তখন আমি কলকাতায় বইমেলায় আসতে শুরু করলাম। বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করলাম। সেই ইউরোপ আমেরিকা থেকে কিন্তু একটা সময় মনে হলো আমি কলকাতায় বাস করিনা কেনো। বাংলার টানে, প্রাণের টানে কলকাতার বাস শুরু করলাম আমি। কিন্তু ওখান থেকে যে আমায় বেরিয়ে যেতে হবে বের করে দেওয়া হবে সেটা বুঝিনি আমি। কিছু বন্ধু সাহিত্যিক লজ্জা দিবস পালন করতেন। কলকাতা থেকে ২২ সে নভেম্বর দু হাজার সাত সালে বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর কয়েক বছর ওরা লজ্জা দিবস পালন করতেন। তারপর এখন আর হয়না সেই দিবস পালন হয়না। কিন্তু বাংলাকে ভালোবেসে বাংলায় থাকতে চেয়েছিলাম একজন বাঙালি লেখকের ঠাঁই হয়না এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কি হতে পারে। বিদেশ করে আমি বাংলাকে এত ভালবাসি বিদেশে এত জায়গায় থেকেছি অন্য কোনও ভাষায় আমি লিখিনি আমি বাঙলাতেই লিখেছি। পঞ্চাশটি বেশি বই লেখা হয়েছে এর মধ্য আমার। আরও লিখবো আমি। যতদিন লিখতে পারি লিখবো যতদিন আমি বেঁচে আছি। যদি কলকাতায় থেকে আমি বাংলায় লিখতে পারি এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে। যদি বাস করতে না দেওয়া হয় অন্তত বইমেলায় সাহিত্য অনুষ্ঠানে যেতে পারি অন্তত আমার যখন ইচ্ছা হবে তখন যেনো কলকাতায় যেতে পারি আমি। সেটার যদি ব্যবস্থা হয় তাহলেও খুব ভালো হবে। এই যে বইমেলা হয় সেটা যে মিস করি আমি কত । বাংলায় লিখি কিন্তু বাংলায় থাকতে পারি না আমি। এরআগে একটা দুসহবাস নামে একটা মেগা সিরিয়াল ব্যান করে দেওয়া হয়েছিল কয়েক বছর আগে। সেটার জন্য দুঃখ কষ্ট হয়। আমার। অন্তত যদি লেখালেখি দিয়েও বাংলায় আমি থাকতে পারতাম আমার লেখা গল্প দিয়েই মেগা সিরিয়াল হয়ে ছিল। সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি কি খুব দোষ করেছি অন্যায় করেছি। আমি শুধু লিখেছি মানবাধিকারের কথা, নারীদের কথা। নারীদের সমান অধিকার এর কথা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা। ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা। গণতন্ত্রের কথা। এবিষয়ে তো বাংলার কারুর দ্বিমত থাকার কথা নয়।তাহলে কেনো এই বাংলায় আমার থাকা সম্ভব হয় না। যদি সেই সুযোগ হয় বিজেপির রাজ্য সভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য যে প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন তাহলে কি আপনি কলকাতায় আসতে প্রস্তুত? টেলিফোন তসলিমার উত্তর হ্যাঁ নিশ্চয়ই আমি প্রস্তুত। কারণ কলকাতাকে ভালোবেসেই তো আমি সেই ইউরোপ থেকে চলে এসেছিলাম কলকাতাকে বাস করতে। নিজে অন্য দেশের সিটিজেন হয়েও আমি কলকাতায় বাস করার জন্য আমি এসেছি। অনেক কিছু ত্যাগ করে এসেছি। ভারতবর্ষকে ভালোবেসে এসেছি। এখন বাংলায় বাস করবেন বাঙালি লেখক সেটা তো ভালই। কিন্তু সেখানে তো বাস করতে দেওয়া হয়না সেই বাংলাদেশে। সেখানে একমাত্র ভরসা আশ্রয় আমার কলকাতা সেখানে যদি আমায় কেউ ফিরিয়ে নিতে পারেন আমি তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। বাংলাদেশে হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে আপনিও বিতাড়িত হয়েছিলেন এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে কারণ জেহাদীরা বাড়ছে। আমি এই বিষয় নিয়ে লিখছি। জেহাদীরাই এই সরকারকে চালাচ্ছে। আর নারীদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে নির্যাতন হচ্ছে ধর্ষণ হচ্ছে, হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে সেই চিন্ময় দাসকে তো এখনো জেলে ভরা হয়েছে। কোনোও কারণ ছাড়াই। এগুলো চলছে। একটা চরম অরাজকতা চলছে সেই দেশে। খুব শীঘ্রই নির্বাচন হওয়া দরকার। আর অভিজ্ঞ রাজনীতিক যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করেন গণতন্ত্রের অধিকার বিশ্বাস করেন তেমন রাজনীতিক এর ক্ষমতায় আসা দরকার। তাহলে দেশের নারীদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে সেগুলো বন্ধ হবে। হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ হবে সেটাই আশা করছি আমি। কারণ জেহাদী জঙ্গিরা দেশ চালালে তো নারী নির্যাতন বাড়বেই। হিন্দুরা নির্যাতিত হতেই থাকবে। সুতরাং এগুলো বন্ধ করার জন্যে একমাত্র উপায় হচ্ছে নির্বাচন।
দিদি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ভালো নয় কি বলবেন?
এটা তো ঠিক যে সংখ্যালঘু যেখানে বেশী তারা পূজো করতে দেবে না। পূজো হতে দেবো না বলবে। বা হিন্দুরা চাইলেও পূজো করতে পারবে না। সেটা কি বাংলাদেশে কোনো হিন্দু বলতে পারবে আমরা এই পূজো করবো। আসলে হিন্দু মুসলমান শিখ খৃষ্টান থাকবে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলবে সেটাই ভালো কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। তাহলে আর কি হবে এই অবস্থা দেখে যেতে হবে। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যেসভায় তসলিমা নাসরিনের দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তার এই বক্তব্য শোনার পর তসলিমা নাসরিনের টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া।কলকাতায় ফিরতে পারলে আমি খুব খুশি হবো, টেলিফোনে জানালেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন
আমি খুব কৃতজ্ঞ সেই দু হাজার সাত সালে আমায় কলকাতা থেকে বের করে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপর তো কেউ এইভাবে বলেননি। বিশেষ করে কোনো পলিটিশিয়ান এই প্রসঙ্গে কোনো কিছুই বলেননি মুখ খোলেন নি। কিন্তু তিনি বলেছেন তাঁকে আমি অন্তরের ধন্যবাদ জানাই। আর যদি কলকাতায় ফেরা সম্ভব হয় একজন বাঙালি লেখকের কাছে যে নির্বাসিত যার কোনো ঘর নেই যার পায়ের তলায় মাটি নেই তার জন্য এর থেকে বড় সুখবর তো আর হবে না। আমি ১৯৯৪ সালে সেই ইউরোপে চলে গিয়েছিলাম আসলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাংলাদেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। শুধু বই লেখার কারণে। তো ওখানে আমার ভালো লাগতো না আমি বাংলায় ফিরতে চাইতাম, দেশে ফিরতে চাইতাম। যেহেতু দেশে ফিরতে দেওয়া হতো না তখন আমি কলকাতায় বইমেলায় আসতে শুরু করলাম। বিভিন্ন সাহিত্য অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করলাম। সেই ইউরোপ আমেরিকা থেকে কিন্তু একটা সময় মনে হলো আমি কলকাতায় বাস করিনা কেনো। বাংলার টানে, প্রাণের টানে কলকাতার বাস শুরু করলাম আমি। কিন্তু ওখান থেকে যে আমায় বেরিয়ে যেতে হবে বের করে দেওয়া হবে সেটা বুঝিনি আমি। কিছু বন্ধু সাহিত্যিক লজ্জা দিবস পালন করতেন। কলকাতা থেকে ২২ সে নভেম্বর দু হাজার সাত সালে বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর কয়েক বছর ওরা লজ্জা দিবস পালন করতেন। তারপর এখন আর হয়না সেই দিবস পালন হয়না। কিন্তু বাংলাকে ভালোবেসে বাংলায় থাকতে চেয়েছিলাম একজন বাঙালি লেখকের ঠাঁই হয়না এর চেয়ে বড় দুঃখ আর কি হতে পারে। বিদেশ করে আমি বাংলাকে এত ভালবাসি বিদেশে এত জায়গায় থেকেছি অন্য কোনও ভাষায় আমি লিখিনি আমি বাঙলাতেই লিখেছি। পঞ্চাশটি বেশি বই লেখা হয়েছে এর মধ্য আমার। আরও লিখবো আমি। যতদিন লিখতে পারি লিখবো যতদিন আমি বেঁচে আছি। যদি কলকাতায় থেকে আমি বাংলায় লিখতে পারি এর থেকে ভালো আর কি হতে পারে। যদি বাস করতে না দেওয়া হয় অন্তত বইমেলায় সাহিত্য অনুষ্ঠানে যেতে পারি অন্তত আমার যখন ইচ্ছা হবে তখন যেনো কলকাতায় যেতে পারি আমি। সেটার যদি ব্যবস্থা হয় তাহলেও খুব ভালো হবে। এই যে বইমেলা হয় সেটা যে মিস করি আমি কত । বাংলায় লিখি কিন্তু বাংলায় থাকতে পারি না আমি। এরআগে একটা দুসহবাস নামে একটা মেগা সিরিয়াল ব্যান করে দেওয়া হয়েছিল কয়েক বছর আগে। সেটার জন্য দুঃখ কষ্ট হয়। আমার। অন্তত যদি লেখালেখি দিয়েও বাংলায় আমি থাকতে পারতাম আমার লেখা গল্প দিয়েই মেগা সিরিয়াল হয়ে ছিল। সেটাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমি কি খুব দোষ করেছি অন্যায় করেছি। আমি শুধু লিখেছি মানবাধিকারের কথা, নারীদের কথা। নারীদের সমান অধিকার এর কথা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা। ধর্ম নিরপেক্ষতার কথা। গণতন্ত্রের কথা। এবিষয়ে তো বাংলার কারুর দ্বিমত থাকার কথা নয়।তাহলে কেনো এই বাংলায় আমার থাকা সম্ভব হয় না। যদি সেই সুযোগ হয় বিজেপির রাজ্য সভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য যে প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন তাহলে কি আপনি কলকাতায় আসতে প্রস্তুত? টেলিফোন তসলিমার উত্তর হ্যাঁ নিশ্চয়ই আমি প্রস্তুত। কারণ কলকাতাকে ভালোবেসেই তো আমি সেই ইউরোপ থেকে চলে এসেছিলাম কলকাতাকে বাস করতে। নিজে অন্য দেশের সিটিজেন হয়েও আমি কলকাতায় বাস করার জন্য আমি এসেছি। অনেক কিছু ত্যাগ করে এসেছি। ভারতবর্ষকে ভালোবেসে এসেছি। এখন বাংলায় বাস করবেন বাঙালি লেখক সেটা তো ভালই। কিন্তু সেখানে তো বাস করতে দেওয়া হয়না সেই বাংলাদেশে। সেখানে একমাত্র ভরসা আশ্রয় আমার কলকাতা সেখানে যদি আমায় কেউ ফিরিয়ে নিতে পারেন আমি তাদের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। বাংলাদেশে হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে আপনিও বিতাড়িত হয়েছিলেন এই বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে কারণ জেহাদীরা বাড়ছে। আমি এই বিষয় নিয়ে লিখছি। জেহাদীরাই এই সরকারকে চালাচ্ছে। আর নারীদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে নির্যাতন হচ্ছে ধর্ষণ হচ্ছে, হিন্দুদের উপর অত্যাচার হচ্ছে সেই চিন্ময় দাসকে তো এখনো জেলে ভরা হয়েছে। কোনোও কারণ ছাড়াই। এগুলো চলছে। একটা চরম অরাজকতা চলছে সেই দেশে। খুব শীঘ্রই নির্বাচন হওয়া দরকার। আর অভিজ্ঞ রাজনীতিক যাঁরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করেন গণতন্ত্রের অধিকার বিশ্বাস করেন তেমন রাজনীতিক এর ক্ষমতায় আসা দরকার। তাহলে দেশের নারীদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে সেগুলো বন্ধ হবে। হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ হবে সেটাই আশা করছি আমি। কারণ জেহাদী জঙ্গিরা দেশ চালালে তো নারী নির্যাতন বাড়বেই। হিন্দুরা নির্যাতিত হতেই থাকবে। সুতরাং এগুলো বন্ধ করার জন্যে একমাত্র উপায় হচ্ছে নির্বাচন।
দিদি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ভালো নয় কি বলবেন?
এটা তো ঠিক যে সংখ্যালঘু যেখানে বেশী তারা পূজো করতে দেবে না। পূজো হতে দেবো না বলবে। বা হিন্দুরা চাইলেও পূজো করতে পারবে না। সেটা কি বাংলাদেশে কোনো হিন্দু বলতে পারবে আমরা এই পূজো করবো। আসলে হিন্দু মুসলমান শিখ খৃষ্টান থাকবে সম্প্রীতি বজায় রেখে চলবে সেটাই ভালো কিন্তু সেটা তো হচ্ছে না। তাহলে আর কি হবে এই অবস্থা দেখে যেতে হবে। বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যেসভায় তসলিমা নাসরিনের দেশে ফিরে আসার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তার এই বক্তব্য শোনার পর তসলিমা নাসরিনের টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া। তসলিমা কে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা হোক।
তাসলিমা নাসরিন বাংলায় সাহিত্য সৃষ্টি করতে চান।
ওনাকে ফেরোনো হোক কলকাতায়।
যেখানে আমারা নজরুল ইসলামের দেশ সেখানে কেনো তসলিমা কে দূরে রাখা হবে এই কথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।
