- ১৬ কোটি টাকার ইঞ্জেকশন।বিরল রোগে আক্রান্ত দু’বছরের শিশু।পাশে দাঁড়ালো বীরভূম জেলা পরিষদ।* পরিতোষ সাহা: বীরভূম
বয়স মাত্র দু’বছর দুই মাস।ছোট্ট রাহাত শেখ আক্রান্ত স্পাইনাল মাসকিউলার এটট্রফি রোগে। জন্মের পর সমস্ত কিছুই স্বাভাবিক থাকলেও আস্তে আস্তে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। প্রথমে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করায় তার বাবা-মা, সেখানেই ধরা পড়ে এই রোগ। ১৬ কোটি টাকা দামের একটি ইনজেকশন লাগবে এই শিশুটিকে। যা অসম্ভব তার পরিবারের কাছে। যদি এই ইঞ্জেকশন না দেওয়া হয় তাহলে তিন মাস পরপর একটি করে ওষুধ খাওয়াতে হবে যার মূল্য ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সেটাও অসম্ভব তাদের কাছে। নলহাটির জয়পুরের বাসিন্দা কলিমুদ্দিন সেখ রামপুরহাটের বিধায়ক তথা রাজ্যের ডেপুটি স্পিকার আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যান । তিনি তাদেরকে পাঠিয়েছেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের কাছে। কাজল শেখ জেলা পরিষদে তার পরিবারের হাতে তুলে দেন ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার চেক। যার মধ্যে রয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকা জেলা পরিষদের, এবং ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা কাজল শেখের ওয়েলফেয়ার সোসাইটি থেকে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাজল শেখ বীরভূম জেলার মানুষকে আবেদন করেন বাচ্চাটির মা-বাবার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর জন্য।
টাকা পেয়ে খুশি শিশুটির পরিবার।শিশুটির বাবা কলিমুদ্দিন সেখ বলেন,“ আমার বাচ্চাটি এমন একটি রোগে আক্রান্ত,যা বিরল।সেই রোগ সারাতে গেলে ১৬ কোটি টাকার একটি ইঞ্জেকশন লাগবে।কিন্তু সেটি কিনতে আমরা কোনদিনই পারবো না।তাই প্রথমে রামপুরহাটের বিধায়কের কাছে গেলে,তিনি সভাধিপতির কাছে পাঠান।তিনিই আমাকে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার দুটি চেক তুলে দেন।”এই ওষুধের আপাতত কিছুটা হলেও সুস্থ হবে এই শিশুটি। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল সেখ বলেন,“ আপাতত ভাবে জেলা পরিষদের তহবিল থেকে ৫০ হাজার টাকা ও তার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকার চেক তুলে দিলাম।তাতে অন্তত তিন মাস সুস্থ থাকবে শিশুটি।”কিন্তু বাকী ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য বীরভূম বাসীর কাছে আবেদন জানান সভাধিপতি।
