কোচবিহারের তুফানগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে সহিংস রূপ নেয়। সোমবার কলেজ ক্যাম্পাসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষে গুরুতর চোট পান সংগঠনের অন্যতম নেতা ধীমান দেউড়ি এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সমীর দাস। তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই ঘটনার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছিল কয়েক দিন আগে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্র সংসদের কক্ষে বসে ধীমান মদ্যপান করছিলেন, এমন একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কলেজ চত্বরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
ধীমান অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে জানান, ভিডিওটি বিকৃত করা হয়েছে এবং এটি প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভ্রান্তিকরভাবে তৈরি। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সোমবার দুপুরে কলেজের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে ধীমান ও তাঁর সঙ্গীরা দাঁড়িয়ে থাকার সময়, তাঁদের ওপর আচমকা হামলার অভিযোগ ওঠে সমীর ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাঁদের আঘাত করা হয়, যার ফলে ধীমান ও তাঁর সহযোগী সাগর বর্মন মারাত্মক আহত হন।
অপরদিকে, সমীরের পাল্টা বক্তব্য, ছাত্র সংসদের ঘরে মদের আসরের যে ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছিল, তা নিয়ে তিনি সরব হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই প্রতিবাদের জেরেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে হামলা চালানো হয়।
পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ করা হয়েছে বলেই অভিযোগ তাঁর। ঘটনার পর কলেজ চত্বরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। স্থানীয় প্রশাসন ও কলেজ কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, যে কোনো সময় পরিস্থিতি আবারও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
Leave a comment
Leave a comment
