গোটা পৃথিবীর নজর কেড়ে সদ্য পৃথিবীতে ফিরেছেন সুনীতা উইলিয়ামস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসার মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের ফেরা নিয়ে উদ্বেগ ও চিন্তায় ছিল ভারতের মানুষ। এবার জানা গেল খুব তাড়াতাড়ি ভারতে আসবেন নাসার এই মহাকাশচারী। ভারতের এক টেলিভিশনের সঙ্গে কথা বলার সময় এই তথ্য দিয়েছেন সুনীতার বৌদি ফাল্গুনী পান্ড্য।
সুনীতা উইলিয়ামসের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গভীর। তাঁর বাবা দীপক পান্ড্য ছিলেন স্নায়ুবিজ্ঞানী এবং গুজরাটের ঝুলসান গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৫৭ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। মাত্র সাত হাজার জনসংখ্যার সেই গ্রামে সুনীতা তিনবার গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতে সুনীতার সুস্থতার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন।
মার্চ মাসের ১ তারিখেই সুনীতা উইলিয়ামসকে চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যেখানে মোদী লেখেন, “আপনি হাজার হাজার মাইল দূরে থাকলেও আমাদের হৃদয়ের কাছাকাছি রয়েছেন। ভারতের মানুষ আপনার সুস্থতা ও মিশনের সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও লেখেন, ২০১৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সুনীতার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা তাঁর এখনও মনে পড়ে। সুনীতার বাবা দীপক পাণ্ড্য ২০২০ সালে তিনি প্রয়াত হন। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আমি নিশ্চিত যে দীপকভাইয়ের আশীর্বাদ আপনার সঙ্গে রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, তার মা বনি পাণ্ড্য নিশ্চয়ই তার ফেরার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রী সুনীতার স্বামী মাইকেল উইলিয়ামসকেও তার “আন্তরিক শুভেচ্ছা” জানান।
এই চিঠিতেই প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “আপনার ফেরার পর, আমরা আপনাকে ভারতে দেখার জন্য উন্মুখ। ভারতের জন্য এটি গর্বের বিষয় হবে।” সুনীতা উইলিয়ামস ফেরার পরই তাঁকে শুভেচ্ছাবার্তাও পাঠান নরেন্দ্র মোদী।
এমন ভালবাসার বন্ধন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর মতই ভারতের মানুষ চান সুনীতা আরও একবার ভারতে আসুন।টিভি চ্যানেলের সঙ্গে কথা বলার সময় সুনীতার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি শীঘ্রই ভারত সফর করবেন। তবে কবে সে তারিখ তা তিনি জানাতে না পারলেও এই বছরেই যে আসবেন এমন আশ্বাস দিয়েছেন।
গুজরাটের বাসিন্দা দীপক পান্ড্যর কথা উল্লেখ করে সুনীতার বৌদি বলেছেন, “ভারত তার বাবার পৈতৃক ভূমি এবং তিনি এই দেশের সঙ্গে অত্যন্ত সংযুক্ত।তিনি ভারত এবং ভারতীয়দের কাছ থেকে ভালোবাসা অনুভব করেন, এবং আমি জানি তিনি আসবেন।” তিনি আরও বলেন, “আমরা একসঙ্গে ছুটি কাটানোরও পরিকল্পনা করছি। অনেক বেশি পারিবারিক সময় কাটানো হবে।”
সুনিতা উইলিয়ামসের জন্মদিনে জনপ্রিয় ভারতীয় মিষ্টি কাজু কাতলি পাঠিয়েছিলেন তাঁর বৌদি। মহাকাশচারী ১৯ সেপ্টেম্বর মহাকাশে তার ৫৯তম জন্মদিন উদযাপন করেন। টিভি চ্যনেলকে তাঁর বৌদি বলেন, “তিনি আমাদের সবার জন্য একজন রোল মডেল।” পাশাপাশি তিনি মজা করে বলেন যে যেহেতু সুনীতা উইলিয়ামস মহাকাশ স্টেশনে সামোসা বা সিঙ্গাড়া খাওয়া প্রথম মহাকাশচারী, তাই তিনি তার জন্য একটি ‘সামোসা পার্টি’ আয়োজন করতে চান।
