সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
দীর্ঘদিন ধরে আদালত প্রশাসনের মর্যাদার যায় ঘুরে বেরিয়েছেন মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র পাওয়ার জন্য। কিন্তু বারে বারেই বিফল হয়েছেন। জুটেছে শুধুই অবহেলা, উপেক্ষা, যন্ত্রণা। তবু হাল ছাড়েননি। অবহেলা উপেক্ষা করেই ফের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রশাসনের। এই হার না মানা লড়াইয়ের সুফল মিলল অবশেষে। সাত মাস পর মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র হাতে পেলেন ধর্ষণ করে খুন হওয়া আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা। দুদিন আগেই তাদের আর্জি মেনে হাইকোর্টেই আরজিকর কান্ডের তদন্তের নজরদারি মামলার শুনানি ফিরিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আর গতকালই রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম নিজেই সোদপুরের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র দিয়ে আসেন বাবা-মা কে। যদি মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্রের আরো কপি প্রয়োজন হয় তাহলে আরজিকর হাসপাতালের এমএসভিপির কাছে গেলে তা পাওয়া যাবে বলেও নিহত চিকিৎসকের বাবা-মাকে জানান স্বাস্থ্য সচিব। নিহত তরুনের চিকিৎসকের বাবা জানান, “মেয়েকে হারিয়েছি, অথচ মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র আমাদের হাতে ছিল না। এটা যে কত কষ্টের, কত যন্ত্রণার তা কাউকে বোঝাতে পারছিলাম না। গত সাত মাস ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দরজায় মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র চেয়ে ঘুরে বেড়িয়েছি। কখনো মৌখিকভাবে আবেদন করেছি। গত জানুয়ারি মাসে লিখিতভাবে আবেদন করেছি। বলেছিলাম নিয়মমাফিক ভাবেই মেয়ের শংসাপত্র নেব। অবশেষে গতকাল বিকেলে রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব এসে আমাদের হাতে মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র তুলে দেন।” শংসাপত্রে কি লেখা রয়েছে তা খোলসা না করলেও নিহত চিকিৎসকের বাবার মন্তব্য ” আমি পুরোটা পড়েছি। যা চেয়েছিলাম তাই লেখা আছে।” কেন এত দেরি? তা নিয়ে অবশ্য কোন মন্তব্য করেন নি, স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। এদিন নিহত চিকিৎসকের সোদপুরের বাড়িতে স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে যান আরজিকরের এমএসভিপি সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়ও। প্রথমে নিহত তরুনী চিকিৎসকের মৃত্যুর শংসাপত্র অনলাইনে আপলোড করা হয় এবং তার লিংক পাঠানো হয়। নিহত চিকিৎসকের পরিবারকে। এরপর নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা কে ফোন করে তাদের মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র রেডি হয়ে গিয়েছে এবং তাদের হাতে তা তুলে দেওয়া হবে বলে জানান আরজিকরের এমএস ভিপি। তারপরই সোদপুরের বাড়িতে গিয়ে আর জি করের এমএসভিপি কে সঙ্গে নিয়ে নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মায়ের হাতে মেয়ের মৃত্যু শংসাপত্র তুলে দেন স্বাস্থ্য সচিব।
