রাজ্য রাজনীতিতে আবার উত্তেজনার সঞ্চার করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক মন্তব্য। এক জনসভায় তিনি তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন, যা নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে ঘিরে বিধানসভায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তা নিয়ে পাল্টা কর্মসূচি গ্রহণ করে তৃণমূল কংগ্রেস।
শুভেন্দু অধিকারী এক জনসভায় বলেন, “তৃণমূলের মুসলিম বিধায়কদের চ্যাংদোলা করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হবে।” এই মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থী বলে আখ্যা দেয়। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব আনা হয় এবং তৃণমূল বিধায়করা শুভেন্দুর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এর জেরে বিধানসভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি এতটাই চরমে পৌঁছয় যে বিজেপি বিধায়করা ওয়াকআউট করেন।
বিধানসভার বাইরে শুভেন্দু অধিকারী প্রতিবাদে বসেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, “আপনাকে ভবানীপুরে হারাব। আরও পাঁচ বছর হারার যন্ত্রণা ভোগ করবেন।” তাঁর এই চ্যালেঞ্জ আরও বিতর্ক উসকে দেয়। বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “রাজ্যের মানুষ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দেবে।”
বিধানসভায় স্পিকার শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন যে, তিনি স্পিকারের দিকে কাগজ ছুড়েছেন। এই ঘটনার পর বিধানসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং শেষ পর্যন্ত স্পিকার শুভেন্দুসহ কয়েকজন বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করেন। শুভেন্দু এই সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্রের ওপর আঘাত বলে দাবি করেন এবং বলেন, “আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমি মানুষের পক্ষে কথা বলব।”
শুভেন্দুর মন্তব্যের প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ মিছিল ও সভার আয়োজন করা হয়েছে। তৃণমূল নেতারা শুভেন্দুর মন্তব্যকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে শুভেন্দুর মন্তব্যকে সমর্থন জানানো হয়েছে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই মন্তব্য রাজ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিকে উস্কে দিতে পারে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, এই ধরনের মন্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ইস্যু নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ শুভেন্দুর বক্তব্য সমর্থন করছেন, আবার কেউ এর তীব্র সমালোচনা করছেন।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে গভীর আলোচনা চলছে।
