সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
তার বিদেশ সফরের আগে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় তথা বিভিন্ন ফোরামে চিঠি দিয়ে ইমেইল করে শুধু ব্যক্তিগত কুৎসা নয় বাংলাকে অসম্মান জানিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। আজ নবান্নে বিদেশ সফরের আগে এই অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মন্তব্য ” যারা এ কাজ করছেন তারা গণশত্রু। তারা বাংলার মাটিকে অসম্মান করছেন দেশকে অপমান করছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় যারা বাংলাকে অপমান করছেন তারা এই রাজ্যেরই বাসিন্দা।”
আগামী একুশে মার্চ থেকে ২৯ শে মার্চ লন্ডন সফরে যাচ্ছেন সপারিষদ মুখ্যমন্ত্রী। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সহ লন্ডনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানে বাংলার কন্যাশ্রী এবং তার রাজনৈতিক লড়াই ও বাংলার উন্নয়নের ধারা এবং ঐতিহাসিকভাবে বাংলার গুরুত্ব নিয়ে বক্তৃতা দেবেন তিনি। একইসঙ্গে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন 2025 এর নির্যাস অনুযায়ী সে দেশের বণিক মহলের সঙ্গেও বাণিজ্য বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। যেখানে বাণিজ্য সম্মেলনের অংশ নেয়া অন্যান্য বহু দেশ ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটেন সহ বিভিন্ন দেশে মুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা সহ নানা রকম ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে এবং বাংলার সম্পর্কে নীতি বাচক ধারণা তৈরি করে ইমেইল বা চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়,” এক্ষেত্রে মার্কসবাদী বা অতিবান এবং তথাকথিত নতুন সাম্প্রদায়িক দল একসঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মহারাষ্ট্র যদি দেশের আর্থিক রাজধানী হয় তাহলে কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গ দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। একথাও সবাইকে মনে রাখতে হবে। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর অনুযোগ ” ২০২৩ সালে যখন আমরা সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলাম তখনও দেখেছি বাংলা সম্বন্ধে কতটা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে বিদেশীদের”। তাই বিশ্বজুড়ে বাংলার সম্মান তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদের সবার বলে মনে করেন মমতা। সম্মান রক্ষার বদলে যেভাবে একদল বাংলার বিরুদ্ধে কুৎসা অপপ্রচার করছেন তারা আসলে” গণশত্র” বলে মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্বের কারণে বাংলা যেমন পূর্ব ভারতে বা পূর্বত্তর ভারতের ক্ষেত্রে গৌরব জনক ভূমিকা পালন করে তেমনি বাংলার মেধা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গৌরবের উদাহরণ। একথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা হুঁশিয়ারি, ” যারা এই কুৎসা অপপ্রচারের খেলা খেলছেন তাদের বলতে চাই আমরাও কিন্তু আপনাদের নেতাদের বিরুদ্ধে এই খেলা খেলতে পারি। আমরাও আপনাদের এভাবে আক্রমণ করতে পারি। বিদেশে আমাদেরও অনেক পরিচিতি আছে আমাদের নিজেদের আপনজন আছে, সরকারি অফিসারদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে পড়াশোনা করে। আমরাও প্রতি আক্রমণ করতে পারি।” তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কুৎসা অপপ্রচার করা হচ্ছে। মমতার স্মরণ করিয়ে দেন যে সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডক্টরেট দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তিনি নিজে কখনোই তার নামের আগে ডক্টরেট লেখেন না। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, “শিক্ষা বিনয় প্রদান করে। শিক্ষা শুধুমাত্র কিছু ডিগ্রী নয়।” তিনি আরো বলেন, “আমি মনে করি এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কারণ তারা আমাদের বিরোধী। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে তাকে অপমান করা মানে বাংলাকে অপমান করা। আর তিনি যখন দেশের বাইরে যান তখন তিনি একজন ভারতীয়। ফলে এই যাবতীয় অসম্মান দেশকে অসম্মানিত করে”। সর্বোপরি মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে তার এই বিদেশ সফরকে ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে চীন এবং শিকাগো সফরে ছাড়পত্র মেলেনি। এমনকি দিল্লির সেন্ট স্টিফেন কলেজ যখন তাকে বক্তৃতা দিতে আমন্ত্রণ জানায় তখনো তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ কেন্দ্রের অনুমোদন বা ছাড়পত্র নিয়ে যখন তিনি বিদেশ সফরে যাচ্ছেন তখন যেভাবে এই সকলকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। তা যে প্রকারান্তরে দেশকেই অসম্মান করার সমতুল তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
