পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের দোলতলায় অনুষ্ঠিত হলো ৫০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী মদন গোপালের পঞ্চম দোল। শ্রীকৃষ্ণের লীলাভূমি বৃন্দাবনের প্রথা মেনেই প্রতি বছর এই বিশেষ দোল উৎসব পালিত হয়, যা গ্রামবাসীদের কাছে শুধুমাত্র এক উৎসব নয়, বরং আবেগ, বিশ্বাস এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।
প্রায় ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে একই নিয়মে পালিত হয়ে আসা এই দোল উৎসবে সামিল হন গ্রামের প্রতিটি মানুষ। শোনা যায়, শ্রী চৈতন্যদেবের ভক্তি আন্দোলনের সময়কাল থেকেই এই পঞ্চম দোলের প্রচলন হয়। কথিত আছে, অধিকারী পরিবারের কাছে থাকা মদন গোপালের স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরই এই প্রতিষ্ঠা হয়। সেই থেকে অন্নভোগের প্রথা শুরু হয় এবং মদন গোপালের আরাধনা করে পঞ্চম দোলের দিন আবির খেলার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব।
জামালপুরের পঞ্চম দোলের মাহাত্ম্য শুধু গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি ছড়িয়ে পড়েছে আশেপাশের গ্রামগুলোতেও। বৃন্দাবনের দোল উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই গ্রামের মানুষজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এই পঞ্চম দোলের জন্য। এদিন সকালে গোপাল জিউকে বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়। তারপর সেবায়েতদের নেতৃত্বে শুরু হয় আবির খেলা। মদন গোপালের পায়ে আবির নিবেদন করার পরেই শুরু হয় রঙের খেলা। সেবায়েতদের পাশাপাশি গ্রামের বয়স্ক থেকে শুরু করে শিশুরাও আবিরে রাঙিয়ে তোলে একে অপরকে।
জামালপুরের বাসিন্দারা মনে করেন, এই পঞ্চম দোল তাদের ঐক্যের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা গ্রামীণ সৌহার্দ্যের এক অনন্য নিদর্শন। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে দোলতলায় উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
এইভাবে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে ধরে রেখে জামালপুরের পঞ্চম দোল আজও সমানভাবে জনপ্রিয় এবং প্রাসঙ্গিক। যুগের পরিবর্তনে অনেক কিছু বদলালেও এই উৎসবের আবেগ আজও অটুট।
