গাজায় নতুন করে হামলায় হামাসের সামরিক গোয়েন্দা সেনার প্রধান ওবামা তাবাসের মৃত্যু হয়েছে বলে জানাল ইজরায়েল। ইজরায়েলের সেনার তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে এই দাবি করা হয়েছে।তবে এই নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনও মন্তব্য হামাসের তরফে করা হয়নি।
তবে শুধু ওবামা তাবাস নয় এবারের বড়সড় হামলায় গাজার সরকারের প্রধান ইসাম আল-দালিস-সহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্তার মৃত্যু হয়েছে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের ইজরায়েলি বিমান হামলায় গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রধান মাহমুদ আবু ওয়াতফা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিষেবার ডিরেক্টর জেনারেল বাহজাত আবু সুলতানেরও মৃত্যু হয়েছে।
তবে হামাসের গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুকে বড় সাফল্য বলেই মানছে অনেকে।কিন্তু নিহত গোয়েন্দা প্রধান এই ওসামা তাবাশ আসলে কে ছিলেন? তাবাশ দীর্ঘদিন ধরে হামাসের সদস্য এবং গ্রুপের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন, যাকে ‘ সবকিছু তথ্য রাখা মানুষ’ হিসাবে বর্ণনা করা হত।আইডিএফ এবং শিন বেটের যৌথ বিবৃতি অনুসারে, তাবাশ হামাসের খান ইউনিস ব্রিগেডের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আইডিএফ জানিয়েছে যে তাবাশের মৃত্যু হামাসের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এবং এই অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষমতার জন্য একটি বড় ধাক্কা।
ওসামা তাবাশ বছরের পর বছর ধরে সন্ত্রাসী কাজকর্ম এবং হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল।২০০৫ সালে গাজার গুশ কাতিফ জংশনে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলায় ইজরায়েল সিকিউরিটি এজেন্সি শিন বেটের সমন্বয় করা ওদেদ শ্যারন নিহত হয়েছিল।এর মাথা ছিল হামাসের এই নিহত হওয়া গোয়েন্দা প্রধান।তাবাশ দক্ষিণ গাজায় হামাসের গোয়েন্দা কার্যক্রম তদারকি করতেন, গোটা অঞ্চলে কার্যকর্ম সমন্বয় করতেন এবং গোটা গোষ্ঠীর যুদ্ধ কৌশল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও বলেছে যে তাবাশের নেতৃত্বে নজরদারি এবং লক্ষ্যবস্তু ইউনিট, ইসরায়েল এবং গাজা উপত্যকায় হামাসের লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করার জন্য ভিজ্যুয়াল গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য দায়ী ছিল।
ইসরায়েলের দাবি ওসামা তাবাশের হত্যা হামাসের জন্য একটি ‘বড় আঘাত’। আইডিএফ-এর দাবি ৭ অক্টোবর হামাস যে হামলা চালিয়েছিল তার কৌশল পরিকল্পনা এবং সমন্বয়ে তাবাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। পাশাপাশি যুদ্ধের সময়, এই তাবাশের ইউনিটই গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করেছিল। সেই সময় গাজায় ইসরায়েলি সামরিক গতিবিধি ট্র্যাক করা এবং আইডিএফ সৈন্যদের উপর হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল হামাসের এই গোয়েন্দা প্রধানের নেতৃত্বেই।
তবে হামাসের গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যুতে বড় সাফল্য এলেও আটক অবশিষ্ট পণবন্দিদের মুক্তি না দিলে গাজায় হামলা আরও তীব্র করা হবে বলে জানিয়েছে ইজরায়েল। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চতুর্থ দিনে প্রবেশ করেছে। পণবন্দিদের মুক্তি না দিলে গাজা উপত্যকার কিছু অংশ দখল নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। এরপরেই সেখানে অবলিম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি করেছেন জার্মানি, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রীরা।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
