ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারতের বৈদেশিক নীতিতে “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” কৌশল সফল হচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ভারত রাশিয়া ও ইউক্রেন এবং ইসরায়েল ও ইরানের মতো বিপরীত মেরুর দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। জয়শঙ্কর বলেন, এই ভারসাম্যপূর্ণ কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারত স্বাধীনভাবে কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করছে।
জয়শঙ্কর জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ভারত নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে উভয় দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে। একইভাবে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও ভারত তাদের উভয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, ভারতের লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপন করা এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতির কারণে জাতিসংঘ, জি-২০ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা এবং গুরুত্ব বেড়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ভারত আমেরিকা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গেও সামরিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক মজবুত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ভারত ইরানের সঙ্গে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং কৌশলগতভাবে আমাদের অবস্থান শক্তিশালী করা। আমরা কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছি না, বরং আমাদের স্বার্থ অনুযায়ী সম্পর্ক তৈরি করছি।”
জয়শঙ্কর জানান, ভারতের এই কৌশল ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “আমরা শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নের জন্য কাজ করব। আমাদের কূটনৈতিক নীতির এই ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের এই কৌশল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের প্রভাব আরও বাড়াবে এবং কৌশলগতভাবে ভারতের অবস্থান মজবুত করবে। ভারতের নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
