বদলে যাওয়ার শঙ্কা থাকলেও বদল হল না বাংলাদেশের নববর্ষের অনুষ্ঠান ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম। পরিবর্তনের বাংলাদেশে একের পর এক নানা বদল দেখে চলেছে মানুষ।সেই বদলের বাংলাদেশেই এবার বাংলা নববর্ষের মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। রোববার সচিবালয়ে নিজের মন্ত্রণালয়ে জাতীয়ভাবে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন নিয়ে সভা শেষে উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। তিনি বলেন, এবার চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হবে, এতে সত্যিকার অর্থেই নতুন জিনিস দেখা যাবে।
সেই থেকেই জল্পনা ছিল, পাল্টাতে পারে বাংলাদেশের নববর্ষের অনুষ্ঠান ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম। রবিবার মিডিয়া রিপোর্ট দাবি করেছিল, এই শোভাযাত্রার নতুন নাম কী হবে, তা ঠিক হবে সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে। সোমবার হতেই বাংলাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানের নাম পাল্টায় কি না, সেদিকে নজর ছিল। তবে বৈঠক শেষে জানা যায়, এই মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম বদল নিয়ে বৈঠকে কথা হয়নি। তবে শোভাযাত্রা পেয়েছে নয়া স্লোগান। সেই স্লোগান হল ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’।
বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদ্যাপনের কর্মসূচি তৈরির জন্য সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে একটি সভা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
তবে প্রথম আলোর রিপোর্ট অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা নববর্ষে শোভাযাত্রা আয়োজনের কথা বলা হলেও একে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বলা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় স্পষ্ট করা হয় যে এই শোভাযাত্রা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু দিনের ঐতিহ্যের পরিচায়ক। এই ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা অব্যাহত রেখে অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক করার জন্য মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আরও বড় পরিসরে, বৈচিত্র্যপূর্ণভাবে এবং লোক ঐতিহ্য ও ’২৪–এর চেতনাকে ধারণ করে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এ বছর শোভাযাত্রায় সর্বজনীন অংশগ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছর বাংলাদেশে পালিত হতে চলা পয়লা বৈশাখে চাকমা, মারমা, সাঁওতাল ও গারোসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে অন্তর্ভুক্তিমূলক মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। আসলে নতুন বাংলা বর্ষবরণের এই শোভাযাত্রা মঙ্গল শোভাযাত্রা হিসেবেই পরিচিত। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা–ইউনেসকো ২০১৬ সালে এই শোভাযাত্রাকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দেয়। এই শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা অমঙ্গলকে দূর করার জন্য বাঙালির নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক, প্রাণীর প্রতিকৃতি ও মুখোশ নিয়ে শোভাযাত্রা করে। এই শোভাযাত্রা অশুভকে দূর করা, সত্য ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির প্রতীক।
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
