পূর্ব বর্ধমানের কালনা হাসপাতালে এক রোগীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গেছে, ওই রোগী গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান, যার ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রোগীর পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়েছে। নিখোঁজ রোগীর সন্ধানে ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন তৎপর হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, নিখোঁজ রোগী কালনা হাসপাতালে কয়েকদিন আগে ভর্তি হন। তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও চিকিৎসকরা তাঁর উপর কড়া নজর রাখছিলেন। কিন্তু বুধবার সকালে হাসপাতালের নার্সরা রাউন্ডে গেলে দেখা যায়, রোগী নিজের বেডে নেই। এরপরই তৎপর হয়ে ওঠে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গোটা হাসপাতাল চত্বর জুড়ে তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু কোথাও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর বয়স প্রায় ৫০ বছর। তিনি কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে তিনি বেশ স্বাভাবিক ছিলেন। এমনকি হাসপাতালের কর্মচারীদের সঙ্গেও তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছিলেন। কিন্তু কীভাবে তিনি নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে এখনও রহস্য কাটছে না।
রোগীর পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, যদি হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া থাকত, তবে এমন ঘটনা ঘটত না। রোগীর ছেলে জানান, “আমরা রাত পর্যন্ত বাবার সঙ্গে ছিলাম। তিনি ভালোই ছিলেন। সকালে এসে দেখি, বাবা বেডে নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানাতে পারছে না। আমরা খুব উদ্বিগ্ন।”
হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন, রোগীর নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফুটেজ থেকে জানা গেছে, শেষবার রোগীকে হাসপাতালের করিডোরে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল। তবে এরপর তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পুলিশ হাসপাতালের কর্মী এবং অন্যান্য রোগীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
স্থানীয়রা এই ঘটনার পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, হাসপাতালে রোগীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা উচিত। এক রোগীর নিখোঁজ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করতে হবে বলে স্থানীয়দের মত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ রোগীর বিষয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশ আশেপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গেও কথা বলছে। পুলিশের অনুমান, রোগী নিজেই হাসপাতাল ছেড়ে কোথাও চলে গিয়েছেন অথবা অন্য কেউ তাঁকে নিয়ে গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। হাসপাতালের এক চিকিৎসক জানান, “আমরা রোগী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে খোঁজার চেষ্টা করছি। নিরাপত্তা কর্মীদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকতে।”
স্থানীয় প্রশাসন এই ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে। হাসপাতালের প্রতিটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, হাসপাতালের ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা এখনও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। তাঁরা দ্রুত রোগীর সন্ধান পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এক পরিবার সদস্য বলেন, “আমরা চাই দ্রুত বাবার খোঁজ মেলে। প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি, তাঁকে দ্রুত খুঁজে বার করুক।”
এই ঘটনার পর হাসপাতালের অন্যান্য রোগীদের পরিবারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাঁরা আশা করছেন, প্রশাসনের পদক্ষেপে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যাবে। পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত রোগীর সন্ধান পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
