বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই মঙ্গলবার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশ করলেন কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। আর তা করতে গিয়ে রিজিজু বলেছেন এমন এক কথা, যা তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। রিজিজুর দাবি, আজ ওয়াকফ বিল পেশ না হলে সংসদ ভবনও হয়তো চেয়ে বসবে বোর্ড!
নানা টানাপড়েন পেরিয়ে বুধবার লোকসভায় পেশ হয়েছে দ্য ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল। বৃহস্পতিবার তা পেশ হবে রাজ্যসভায়। বুধবার রিজিজু দাবি করেন, এই ওয়াকফ সংশোধনী বিল দেশের মুসলিমদের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে। মুসলিম সংগঠনগুলিও এই বিলকে সমর্থন করছে। এই বিলের যাঁরা বিরোধিতা করছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমি বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বোঝাব, এই বিলকে কেন যুগান্তকারী বলছি। সরকার কারও জমি বা সম্পত্তি ছিনিয়ে নেবে না। আমরা আদালতের ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারি না। মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন নেই। কেবল ওয়াকফ সম্পত্তির দেখভাল সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ। বিরোধীরা পাল্টা জবাব দেয়।
রিজিজু বলেন, “যদি আজ আমরা এই সংশোধনী নিয়ে না আসতাম তাহলে, যে কক্ষে আমরা বসে আছি, এই সংসদ ভবন, এটিও ওদের দাবির মধ্যে ছিল।” তাঁর কথায়, ১৯৭৬ সাল নাগাদ কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার রাজধানীর শতাধিক সম্পত্তিকে ডিনোটিফাই করে দেয়। সেই সম্পত্তি গুলো নিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের সঙ্গে মামলা চলছিল। মন্ত্রীর দাবি, তার পরেই ওয়াকফ বোর্ড সংসদ ভবন, দিল্লি সিজিও কমপ্লেক্স-সহ একাধিক এমন সম্পত্তি নিজেদের বলে দাবি তোলে। তাঁর আশঙ্কা, কংগ্রেস আরও বেশি দিন ক্ষমতায় থাকলে সব ওয়াকফ বোর্ডকে দিয়ে দিত। আইন করে সেই পথ বন্ধ করতে চায় মোদী সরকার। দানবিক ৪০ নম্বর ধারা খতম করাই সরকারের লক্ষ্য। মন্ত্রী বলেন, “এর পর থেকে রাতারাতি আর কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ নিজেদের বলে দাবি করতে পারবে না।”
তৃণমূল এই বিলের বিরোধিতায় প্রথম সারিতে। সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “একেবারেই সমর্থন করছি না। এই বিল অসাংবিধানিক। তৃণমূল এই বিলের বিরোধিতা করছে।” শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর সাংসদ অরবিন্দ সাবন্ত প্রশ্ন তোলেন, ‘‘সরকার কি মন্দির কমিটিতে অহিন্দুদের থাকার অনুমতি দেবে? কারণ তারা ওয়াকফ বোর্ড কমিটিতে অমুসলিমদের স্থান দেওয়ার চেষ্টা করছে।’’
