কেন্দ্রের স্বৈরাচারী মনোভাবেই দেশের স্বাস্থ্য বিপাকে বললেন মমতা
রাস্তাই রাস্তা দেখাবে দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
জীবন দায়ী ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি এবং মেডিক্লেমে জিএসটি বসানোর প্রতিবাদে এবার ব্লকে ব্লকে কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে নামছে তৃণমূল। আগামী ৪ ও ৫ এপ্রিল রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে এই জীবন দায়ী ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি ইস্যুতে ব্লক এ ব্লকে বিক্ষোভ দেখাবেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা। এই কর্মসূচির কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ওষুধের উপর এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারেরও আবেদন জানিয়েছেন কেন্দ্রকে। অনুরোধ-আন্দোলনে যদি কাজ না হয় তাহলে রাস্তাই রাস্তা দেখাবে বলে হুঁশিয়ারিও দিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের একতরফা ও স্বৈরাচারী মনোভাবের জন্যই দেশ জুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বিপাকে বলেও অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতার প্রশ্ন, একটি নির্বাচিত সরকার কি শুধুমাত্র বড়লোক বা বিত্তবানদের জন্য নাকি সাধারণ মধ্যবিত্ত বা গরিব মানুষের জন্য? তাহলে ক্যান্সার থেকে সাধারণ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, গ্যাস্ট্রো ইত্যাদি মারণ অথবা সাধারণ রোগের ক্ষেত্রেও ওষুধের অগ্নিমূল্য কেন করা হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে জানান, “আমি একটা ব্যাপারে খুব শঙ্কিত এবং দুঃখিত এবং মর্মাহত। সোসাইটির ইকোনমিক প্যারামিটার সেটাই হওয়া উচিত যাতে গরিব মানুষরা ন্যায্য মূল্যে ন্যায্য জিনিস পায়। খাদ্য বস্ত্র বাসস্থান এবং এখন স্বাস্থ্য। আমরা তাই স্বাস্থ্যসাথী করেছি। জেনেটিক মেডিসিন যাতে মানুষ পায় তার জন্য ব্যবস্থা করেছি। বছরে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়। সাধারণ মানুষকে আমরা বিনামূল্যে ট্রিটমেন্ট দিই। বেশ কয়েকজন বাচ্চার হার্ট অপারেশন করেছি। কিন্তু ইদানিং আমরা লক্ষ্য করছি, হেলথ ইন্সুরেন্স দ্য মেডিক্লেমে জিএসটি চালু করা হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী কে বারবার বলেছি। এটা মানুষের ইস্যু। দয়া করে মানুষের ঘাড়ে ওষুধের দামের বোঝা চাপাবেন না।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরো বলেন , ৭৪৮ টা ওষুধের দাম যা গরিব মানুষ কেনে, ৮০ টি নন সিডিউল ড্রাগ তার দাম বাড়ানো হয়েছে। এসব ওষুধ কেনে গরীব মানুষরা। বড় বড় হাসপাতালে গিয়ে ট্রিটমেন্ট করার ক্ষমতা যাদের নেই তারা এই ওষুধ কেনেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন স্বাস্থ্য আমাদের সম্পদ হওয়া সত্বেও কিভাবে চিকিৎসা করবেন সাধারণ মানুষ? ডাক্তার যখন এসব ওষুধ প্রেসক্রাইব করবেন তখন তো ওষুধের দাম বেশি দিয়ে কিনতে হবে সাধারণ মানুষকেই! শুধু জীবন দায়ী ওষুধি নয় টোল টেক্স ও বাড়িয়েছে কেন্দ্র। মমতা প্রশ্ন আর কত টাকা চাই কেন্দ্রের? সব টাকা কি মোদি সরকার একাই খাবেন?
ওষুধের দাম বৃদ্ধি ইস্যুতে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু দাবি জানিয়েই ক্ষান্ত হননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী। মানুষের এই জ্বলন্ত ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। মমতার মন্তব্য ” ৬ তারিখে রামনবমী তাই আমি কিছু করছি না। চার এবং পাঁচ শুক্র এবং শনিবার বেলা চারটের সময় এক ঘন্টা রাজ্যের প্রতি ব্লকে ব্লকে মানুষের এই কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অধিকার সভা হবে। এলাকায় এলাকায় মিছিলও হবে। কেন্দ্রের শাসক দল তথা বিজেপি পার্টি কে “জুমলা পার্টি” বলে উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন “আর কত টাকা পেলে কেন্দ্রীয় সরকার নিজেদের জুমলাবাজি বন্ধ করবে? নির্বাচনের সময় বড় বড় কথা। নির্বাচন শেষেই জনবিরোধী কাজ। বাধ্য হয়েই তৃণমূলকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে। যদি অনুরোধ আন্দোলনে কাজ না হয় তাহলে রাস্তায় রাস্তা দেখাবে।”
