
লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার নিরাপত্তার নীল নকশা চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় সংখ্যায় রাজ্য পুলিশও মোতায়েন করা হচ্ছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে মোট ৪০ হাজার ৯২৮ জন রাজ্য পুলিশ কর্মী ও আধিকারিক দায়িত্ব পালন করবেন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তুলনায় এই সংখ্যা চার ভাগের এক ভাগেরও কম।
কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে মোতায়েন হওয়া রাজ্য পুলিশের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ থাকছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। মুর্শিদাবাদ এবং জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা মিলিয়ে মোট ৫,৭৬৬ জন পুলিশকর্মী দায়িত্বে থাকছেন। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে মালদহে ২,৮১৮ জন এবং কোচবিহারে ২,৩৭০ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়াও দার্জিলিং (১১৭০), জলপাইগুড়ি (১৪৬৭), আলিপুরদুয়ার (১১৫৯), কালিম্পং (৬২৭) এবং শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে (১২৯০) জন পুলিশকর্মী থাকছেন। উত্তর দিনাজপুর জেলাকে ইসলামপুর (১১১৯) ও রায়গঞ্জ (১০০৪) পুলিশ জেলায় ভাগ করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রথম দফায় জঙ্গলমহলের জেলাগুলোতেও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে কমিশন। এই দফায় বীরভূমে ৩,২৪৮ জন, বাঁকুড়ায় ৩,১২৭ জন, পুরুলিয়ায় ৩,০০৫ জন এবং ঝাড়গ্রামে ১,১০৮ জন রাজ্য পুলিশকর্মী মোতায়েন থাকছেন। মেদিনীপুর জোনেও থাকছে নজরকাড়া নিরাপত্তা। পূর্ব মেদিনীপুরে ৩,৯৮১ জন এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩,৩২৭ জন পুলিশকর্মী দায়িত্বে থাকছেন। শিল্পাঞ্চল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ৩,১২৭ জন পুলিশকর্মী কাজ করবেন।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও তা কেন্দ্রীয় বাহিনীর তুলনায় অনেকটাই কম। কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম দফার ভোটে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। বাহিনীর এক একটি কোম্পানিতে কমপক্ষে ৭২ জন সদস্য থাকেন। সেই হিসেবে প্রায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩০৪ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ভোটের দায়িত্বে থাকছেন, যা রাজ্য পুলিশের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
কমিশনের এই সুপরিকল্পিত মোতায়েন থেকেই স্পষ্ট যে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কড়া কেন্দ্রীয় নজরদারির মাধ্যমেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে তারা। মূলত সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা এবং জঙ্গলমহলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
