
লোকসভা ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ফের সরব তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাদে তৃণমূলের অন্য সমস্ত প্রথম সারির নেতা, এমনকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর গাড়িতেও পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত একটি হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূলের প্রকাশিত স্ক্রিনশট অনুযায়ী, কমিশন নাকি সন্দেহ করছে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হতে পারে। এই অভিযোগ তুলে তৃণমূলের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের (যাঁরা নিরাপত্তা পান) গাড়ি চেকিং পয়েন্টগুলোতে গুরুত্ব দিয়ে তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশিকায় অভিষেক এবং তাঁর স্ত্রীর নাম আলাদা করে উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
প্রকাশিত দু’টি স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ও ব্যয় পর্যবেক্ষকদের কিছু নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পুলিশ এবং সিএপিএফ-কে পর্যবেক্ষকদের সাহায্য করতে হবে এবং এই ‘সারপ্রাইজ’ তল্লাশির ওপর কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি চালানো হবে। তবে লক্ষ্যণীয় যে, স্ক্রিনশটে অভিষেকের নাম ইংরেজিতে দু’রকম বানানে লেখা রয়েছে এবং তাঁর কোনও পদবির উল্লেখ নেই। এমনকি স্ত্রীর কথা উল্লেখ থাকলেও তাঁর নাম সরাসরি লেখা নেই।
তৃণমূলের দাবি করা ওই স্ক্রিনশট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন জেলাগুলোতে আয়োজিত জনসেবামূলক কর্মসূচির ওপরও কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নদীয়া, বসিরহাট, বনগাঁ, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার-সহ একাধিক ব্লকে মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান শিবিরের আড়ালে টাকা বিলি হতে পারে। তাই এই ধরনের শিবিরগুলোতেও তল্লাশি চালানোর কথা বলা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে তৃণমূল। কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং কমিশনের ‘অতি-সক্রিয়তা’ নিয়ে তাদের পুরনো অভিযোগই এদিন আরও জোরাল হল। শাসকদলের মতে, ভোটের প্রচার ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচীকে নিশানা করতেই এই ধরনের ‘গোপন নির্দেশ’ দেওয়া হচ্ছে।
যদিও এই প্রকাশিত চ্যাটের সত্যতা বা নির্বাচন কমিশনের তরফে এমন কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কমিশনের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আপাতত এই ‘হোয়াট্সঅ্যাপ-নির্দেশ’ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক তুঙ্গে।
