বাংলাদেশে কী শেখ হাসিনার দল ‘আওয়ামী লীগ’কে নিষিদ্ধ করা হবে? আর যদি হয় তবে কবে? এই প্রশ্ন বাংলাদেশের মাটিতে ঘুরছে বহুদিন ধরেই। এবার বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত সরকার একা নেবে না।বুধবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকার মনে করছে যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া আর দেশি-বিদেশি যারা আমাদের সহযোগী ও স্টেকহোল্ডার রয়েছে তাদের পরামর্শ ছাড়া সরকার একা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। জনগণ বারবার বলছে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে। আমরা মনে করছি, সরকার সবার সঙ্গে পরামর্শ-পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেবে।”
অন্যদিকে এই একই দিনে আওয়ামী লীগকে শুধু নিষিদ্ধ নয়, নিশ্চিহ্ন করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার যে গণহত্যা চালিয়েছে, সেজন্য দলটিকে শুধু নিষিদ্ধ নয়, নিশ্চিহ্ন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।বুধবার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই জানিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।২০ মার্চ ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ড. কমফোর্ট ইরোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় তিনি একথা জানান। রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে দলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বাংলাদেশের আদালতে বিচার করা হবে।’ পাশাপাশি ইউনূস জানান, রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সম্ভাব্য অপরাধের অভিযোগ থাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করার বিষয়টি সরকার বাতিল করেনি।
কাজেই আওয়ামী লীগের মত দলকে নিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের ভাবনা ও সিদ্ধান্তের পার্থক্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে জানিয়েছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি বলেছি যে, জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এই বিষয়টা বারবার করে বলে আসছি যে, আমরা একটা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি… আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, গণতন্ত্রের সব নর্মস অ্যান্ড কন্ডিশন যেগুলো আছে, সেগুলোর ওপর আমরা আস্থা রাখি এবং সেটা আমরা চর্চা করি… অতীতেও চর্চা করেছি।’
Jazzbaat24Bangla • Beta
Leave a comment
Leave a comment
