রাস্তায় ঢাক, হাতে ধ্বজ! পায়ে পায়ে ধর্মীয় উৎসবের ছন্দ। কিন্তু ছন্দপতনের ভয়েই এবার রামনবমীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা সাজাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।
রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, উৎসবে উন্মাদনা চলুক, কিন্তু বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত নয়। তাই রাজ্যের দশটি পুলিশ জেলা ও কমিশনারেট ইতিমধ্যেই ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার হাল শক্ত হাতে ধরতে মাঠে নামানো হচ্ছে ২৯ জন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার।
সূত্রের খবর, চলতি বছর ৭ এপ্রিল, রবিবার রামনবমীর দিনে কলকাতা জুড়ে ৫৯টি ছোট-বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি মিছিলে থাকবে বিশেষ পুলিশি নজরদারি এন্টালি, পিকনিক গার্ডেন, কাশীপুর, হেস্টিংস ও সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ হয়ে যাবে প্রধান শোভাযাত্রা।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্ধারিত রুট ও অনুমতি ছাড়া মিছিল হলে সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ। মিছিলে অস্ত্র প্রদর্শন বা ব্যবহার হলে, তারও থাকবে কড়া পরিণতি। কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মা আগেভাগেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ,উৎসব হোক, কিন্তু নিয়ম ভাঙলেই ব্যবস্থা নিশ্চিত।
নজরদারিতে এবার আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া— ড্রোন উড়ে বেড়াবে আকাশে, বহুতল থেকে রাখা হবে কড়া নজর। এমনকি, রাস্তায় রাস্তায় মোতায়েন থাকবে ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ও বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম। পাশাপাশি, ৯ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের সমস্ত কর্মী ও অফিসারের ছুটি বাতিল।
এদিকে, রামনবমীর আগেই শহরে উষ্ণতা বাড়িয়েছে গেরুয়া পতাকার উপস্থিতি। রেড রোড, বিধানসভার বাইরে, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পাশ থেকে শুরু করে মেয়ো রোড ও ব্রিগেড ময়দান এলাকা পর্যন্ত ছেয়ে গেছে রামধ্বজায়। পতাকায় রয়েছে রামচন্দ্রের ছবি ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। এমনকি রাজভবন ও আকাশবাণী ভবনের সামনেও লাগানো হয়েছে পতাকা। নজিরবিহীনভাবে কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরেও দেখা গেছে একই চিত্র।
তবে এই পতাকা কে বা কারা লাগিয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানাতে পারেনি প্রশাসন। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রেখে চলছে তদন্ত।
উৎসবের আবেগ থাকুক, কিন্তু শান্তি যেন বিঘ্নিত না হয়, এই বার্তাই যেন সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চাইছে প্রশাসন।
